
চারপাশে তাকান। সবাই ব্যস্ত, খুব ব্যস্ত।কেমন যেন যন্ত্রের মতো ছুঁটে চলেছে সবাই।জিজ্ঞেস করলেই বলবে, “সময় নেই , এক ফোঁটাও দম ফেলার ফুরসত নেই।” কিন্তু কেন এই ব্যস্ততা? কিসের এত তাড়া? মানুষগুলোই বলছে তারা ‘সময়হীন’।তবে তাদের হাতে সময় কিন্তু ফুরিয়ে যায়নি। বরং তারাই নিজেদের সময়কে গুরুত্ব দিতে ভুলে গেছে।আসলে, এই ব্যস্ততা এখন এক নতুন ধরনের ফ্যাশন।যেখানে প্রতিনিয়ত প্রমাণ করতে হয় যে আপনি গুরুত্বপূর্ণ।আপনার এই অনেক সময় ব্যস্ত থাকার অজুহাতে চাপা পড়ে যাচ্ছে কত সম্পর্ক।আবার কত শত না পাওয়াকে ঢেকে রাখতে মানুষ নিজেকে ব্যস্ত করে তুলছে। তার ভালো থাকাও কোথাও জড়িয়ে যাচ্ছে তার ব্যস্ততার সাথে।আবার কিছুসময় মানুষ ইচ্ছাকৃত ব্যস্ত থাকার অভিনয় করছে। সোশ্যাল মিডিয়া ঘাঁটছে, তবুও বলছে, “খুব চাপ!।।ব্যস্ত থাকলেই জীবন সফল এটা ভেবে নেওয়ার কোনো কারণ নেই।তবুও এটা ভেবেই খুশি হয়ে যাই।হাতের সামনে ফাইলের পাহাড় এদিকে চোখ মোবাইলের স্ক্রিনে কিন্তু কাছের কেউ ফোন করলেই বলছি সময় নেই পরে কথা বলবো।
কিন্তু এই দৌড়টা কিসের ?
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, আমাদের মস্তিষ্ক ‘খালি সময়’ কে ভয় পায়। যখন হাতে কোনো কাজ থাকে না, তখন মনের গভীরে জমে থাকা চিন্তা বা পুরনো কষ্টগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। সেই চিন্তাগুলো থেকে বাঁচতে আমরা দ্রুত অন্য কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ি। এই ঝাঁপ দেওয়াটা এক ধরনের ‘মনোযোগের নেশা’। একটু পর পর ফোন চেক করা, নোটিফিকেশনের আওয়াজে চমকে ওঠা—এগুলো মস্তিষ্ককে সাময়িক আনন্দ দেয় কিন্তু আমরা ভুলে যাই, জীবনের আসল মানেটা কী। সকালে ঘুম থেকে ওঠা, অফিসে যাওয়া, রাতে ফেরা রোজকারের সেই একই চক্র। এই দৌড় শুধু টাকা জন্য? না।এই দৌড় আসলে নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদে।সময় নষ্ট করার মত সময়ও আমাদের নেই।আর এখানেই জিতে যাচ্ছে ভার্চুয়াল জগৎ আর হেরে যাচ্ছে আমাদের কাছের মানুষগুলো। আমাদের কাছের সম্পর্ক,হারিয়ে যাচ্ছে বন্ধুক্ত।আমরা সেই সময়টাও কাজে লাগিয়ে দিই ‘অকেজো’ কাজে। যেমন, রাতে ঘুমানোর আগে আর একটু ফেসবুক দেখে নেওয়া। কতসময় কাছের মানুষগুলো বঞ্চিত হয় কিন্তু আমরা বুঝতে পারি না।এই ব্যস্ততার আড়ালে আছে কোনো সৃষ্টি দেয় না। শুধু জীবন থেকে সময় চুরি করে নেয়।
তাই এখন সময় এসেছে থামার। একবার চোখ বন্ধ করে ভাবুন। কিসের জন্য এত ছুটছেন? সত্যিই কি আপনি গুরুত্বপূর্ণ কিছু করছেন, নাকি শুধু সমাজের চাপে পড়ে ব্যস্ত থাকার অভিনয় করছেন? সময়কে মূল্য দিন। যে সময়টা ‘নষ্ট’ করছেন, সেটা নিজের জন্য দিন। নিজের সঙ্গে কথা বলুন। তবেই এই অর্থহীন ব্যস্ততার ফাঁদ থেকে মুক্তি মিলবে।
