
সন্দেশখালির শাহজাহান শেখ মামলার অন্যতম সাক্ষী ভোলা ঘোষের বাড়ির সামনে পুলিশি নিরাপত্তা মোতায়েন করল প্রশাসন। রবিবার সকাল থেকে উত্তর ২৪ পরগনার তাঁর বাড়ির সামনে পুলিশ পাহারা দিতে দেখা যায়। তবে নিরাপত্তা পেলেও আতঙ্ক কাটছে না ভোলার। তাঁর দাবি, তাঁকে খুন করার চক্রান্ত এখনও পুরোপুরি থামেনি।
গত বুধবার সকালে ভোলা ঘোষের চার চাকার গাড়ি বাসন্তী হাইওয়েতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। উল্টো দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে গাড়িটি রাস্তার পাশের নয়ানজুলিতে পড়ে যায়। একই সঙ্গে ট্রাকটিও জলে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় গাড়ির চালক এবং ভোলার কনিষ্ঠ পুত্রের। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ভোলাকে। এই দুর্ঘটনায় পুত্রহারা হন তিনি।
ভোলার অভিযোগ, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা। তাঁর দাবি, শাহজাহান শেখের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল। ভোলার বড় ছেলের অভিযোগও একই বাবাকে যাতে আদালতে সাক্ষ্য দিতে না-পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই হামলা চালানো হয়েছে।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাজবাড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করেন ভোলা ঘোষ। তার ভিত্তিতে এফআইআর রুজু করেছে পুলিশ। শনিবার ন্যাজাট থানার পুলিশ এই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের মধ্যে উত্তম সর্দার ওরফে সুশান্ত রয়েছেন, যিনি অতীতে শাহজাহানের বাড়িতে ইডির উপর হামলার মামলাতেও গ্রেফতার হয়েছিলেন। অন্য ধৃতের নাম রুহুল কুদ্দুস শেখ।
তবে ভোলার দাবি, মূল অভিযুক্ত ট্রাকচালক-সহ কয়েক জন এখনও অধরা। তাই বাড়ির সামনে পুলিশি পাহারা থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি। প্রশাসনের কাছে তাঁর আবেদন, দ্রুত সব অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে উপযুক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
