
কলকাতার যুবভারতীতে যেখানে মাত্র ২২ মিনিটেই নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছিল, সেখানে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে পুরো ৬১ মিনিট হাসিমুখে কাটালেন লিয়োনেল মেসি। শনিবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে স্টেডিয়ামে ঢুকে সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিট পর্যন্ত মাঠে ছিলেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা। এই এক ঘণ্টায় ওয়াংখেড়ে দেখল মেসির ফুটবল জাদু, শৃঙ্খলিত আয়োজন আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসের এক অনন্য ছবি।
মেসির সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ় ও রদ্রিগো ডি’পল। তিন তারকাকে দেখতে দুপুর ২টো থেকেই স্টেডিয়াম ভরতে শুরু করেন দর্শকেরা। মেসি মাঠে নামার আগেই বিনোদনের ব্যবস্থা ছিল প্রদর্শনী ম্যাচে খেলেন সুনীল ছেত্রী, আশুতোষ মেহতা, চিংলেনসানা সিংহ, রাহুল ভেকে, বালা দেবীর মতো ফুটবলাররা, সঙ্গে অভিনেতা ডিনো মোরিয়া ও জিম সরব। সুনীলের হেডে গোল স্টেডিয়ামে উন্মাদনা ছড়ায়।
৫টা ৪২ মিনিটে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস দর্শকাসনে বসেন। তার কয়েক মিনিট পরেই সচিন তেন্ডুলকর। ঠিক সময়েই মাঠে নামেন মেসি, সুয়ারেজ় ও ডি’পল। কড়া নিরাপত্তা থাকলেও কারও সঙ্গে অতিরিক্ত ভিড় বা বিশৃঙ্খলা হয়নি। সবাই নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকায় গ্যালারি থেকেই স্পষ্ট দেখা যায় তিন তারকাকে যা কলকাতায় সম্ভব হয়নি।
মাঠে ঢুকেই সুনীল ছেত্রীর সঙ্গে করমর্দন করেন মেসি। ভারতীয় ফুটবলের সেরা তারকাকে নিজের সই করা আর্জেন্টিনার জার্সি উপহার দেন তিনি। দু’জনে পেনাল্টি শট নেন, গোলও করেন। এরপর শুরু হয় গ্যালারিতে বল পাঠানোর মজার পর্ব দূরত্বে শট মারার প্রতিযোগিতায় কখনও মেসিকেও টেক্কা দেন ডি’পল। গ্যালারির একদম কাছে এসে দর্শকদের সঙ্গে মুহূর্ত ভাগ করে নেন তাঁরা।
এই অনুষ্ঠানেই উদ্বোধন হয় মহারাষ্ট্র সরকারের ‘প্রজেক্ট মহাদেব’। রাজ্যের ৩৫ জেলা থেকে নির্বাচিত ছেলে ও মেয়েদের পাঁচ বছরের ফুটবল স্কলারশিপ দেওয়া হবে। শিশুদের সঙ্গে ‘পাসিং দ্য বল’ খেলেন মেসিরা, যা দর্শকদের আরও আপ্লুত করে।
শেষে সংবর্ধনা পর্বে সচিন নিজের সই করা জার্সি তুলে দেন মেসির হাতে। পাল্টা মেসি দেন ২০২৬ বিশ্বকাপের বল। সচিন বলেন, “খেলার পাশাপাশি মেসি দারুণ একজন মানুষ।” সব মিলিয়ে, ৬১ মিনিটে ওয়াংখেড়ে দেখাল তারকা মানেই বিশৃঙ্খলা নয়, সঠিক আয়োজন থাকলে ফুটবলও হতে পারে উৎসব।
