
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবল তারকা লিয়োনেল মেসির অনুষ্ঠানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলা নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যক্তিগত কাজে দেশের বাইরে থাকা অবস্থায় অভিষেক মঙ্গলবার দিল্লি পৌঁছেই এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরব হন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যুবভারতী কাণ্ডের এক ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন, পুলিশ ও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তারপরও কেন বারবার প্রশ্ন ওঠছে।
অভিষেক আরও উল্লেখ করেন, “চলতি বছরের কুম্ভ মেলায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তাতেও কোনও নেতা প্রশ্নের মুখে পড়েননি। ১৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লি স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তাতেও কোনও তদন্ত হয়নি, কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি, ক্ষমা চাওয়া হয়নি। তাহলে কেন যুবভারতী কাণ্ডে এত প্রশ্ন উঠছে?”
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের ঘটনা শুরু হয় মেসি মাঠে উপস্থিত থাকাকালীন। দর্শকরা তাঁকে দেখতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে যান এবং মেসি চলে যাওয়ার পর ভাঙচুর শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, মেসির পাশে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বেশি সময় ছিলেন, যার কারণে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। অনলাইনেও অরূপের মেসির সঙ্গে থাকা ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় প্রশাসনের মধ্যে জল্পনা সৃষ্টি হয় যে অরূপকে পদত্যাগ করতে হবে কি না। তবে, মেসির অনুষ্ঠানের পরই তিনি পদত্যাগের ইচ্ছাপত্র দেন এবং তা গ্রহণ করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যুবভারতী কাণ্ডের তদন্তের জন্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেন। কমিটি প্রাথমিক রিপোর্ট এবং সুপারিশ নবান্নে পেশ করে। এরপর রাজ্য পুলিশের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা ডিজিপি রাজীব কুমার এবং বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুকেশ কুমারকে শোকজ করা হয়। এছাড়াও যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সিইও দেবকুমার নন্দনকে অপসারণ করা হয়েছে। ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক দফতরের প্রধান সচিব এবং বিধাননগরের ডিসি অনীশ সরকারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর দ্রুত পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা গ্রহণের পরেও প্রশ্ন ওঠা অনুচিত। আমরা চাই, জনগণ এ বিষয়ে সঠিক তথ্য জানুক এবং বিভ্রান্ত না হোক।” যুবভারতী কাণ্ডের প্রাথমিক তদন্ত শেষে সিট (বিশেষ তদন্তকারী দল) গঠন করা হয়েছে এবং ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহলে এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তবে প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
