
ঢাকার বারিধারা এলাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন অফিস ঘেরাওয়ের ঘটনায় ভারত–বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বুধবার ‘জুলাই ঐক্য’ নামে একটি সদ্য গড়ে ওঠা সংগঠনের ডাকে কয়েকশো ছাত্র-যুব ঢাকার রামপুরা এলাকা থেকে মিছিল করে ভারতীয় হাইকমিশনের দিকে এগোয়। পুলিশ তাদের আটকালেও পরিস্থিতি নিয়ে প্রবল অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নয়া দিল্লি।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, এই ঘটনার পর বুধবার সকালে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর আশঙ্কা রয়েছে। দিল্লির কূটনৈতিক মহলের মতে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবই উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
‘জুলাই ঐক্য’ সংগঠনটি শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লিগের নেতাদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে এই কর্মসূচি নিয়েছিল। ভারতের মতে, এই ধরনের কর্মসূচি অকারণ অস্থিরতা তৈরি করছে এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে বুধবার দুপুর দুটোতেই ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন অফিস বন্ধ করে দিতে হয়।
ঘটনার পেছনে সাম্প্রতিক কিছু প্রেক্ষাপটও রয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর দুই দেশই বিজয় দিবস পালন করলেও তার আগে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় বর্মাকে ডেকে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের কড়া বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছে ভারত। অভিযোগ, যথাযথ তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই সীমান্ত পার হয়ে অভিযুক্তদের ভারতে আশ্রয়ের প্রসঙ্গ তোলা হয়েছে, যা কূটনৈতিক রীতিনীতির পরিপন্থী।
এদিকে, সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়েছে বলেও আশঙ্কা করছে নয়া দিল্লি। সব মিলিয়ে ঢাকার পরিস্থিতি এবং ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তা নিয়ে দিল্লির উদ্বেগ ক্রমশ গভীর হচ্ছে।
