
আজকের দিনে মানুষ যেন নিজের চোখ আর কানকেও বিশ্বাস করতে ভয় পায়। আমাদের বিচারবুদ্ধি আমরা যেন গচ্ছিত রেখেছি স্মার্টফোনের স্ক্রিনে। সোশ্যাল মিডিয়া যা দেখাচ্ছে, যা বোঝাচ্ছে—আমরা তাই ধ্রুব সত্য বলে ধরে নিচ্ছি। এই ডিজিটাল যুগে তথ্যের চেয়ে গুজবের গতি অনেক বেশি। মানুষ কি তবে নিজের চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে? আমরা কি ধীরে ধীরে সোশ্যাল মিডিয়ার হাতের পুতুল হয়ে যাচ্ছি?
আগেকার দিনে বিজ্ঞাপনে দেখা যেত ‘নকল হইতে সাবধান’ কিংবা ‘আসল দেখে কিনুন’—এমন সতর্কবার্তা। আজ সেই সতর্কবার্তা হারিয়ে গেছে ইন্টারনেটের ভিড়ে। এখন এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারসাজিতে খারাপ জিনিসকেও হীরে বানিয়ে পরিবেশন করা হচ্ছে। ভুয়ো ছবি, বিকৃত ভিডিও আর মনগড়া খবর দিয়ে এমন এক মায়াজাল বোনা হচ্ছে যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল-নকল চেনা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। আমরা এখন এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে গুজবই সত্যের জায়গা দখল করে নিয়েছে। গুজবই আজ শ্রেষ্ঠ।।
আর এই ডামাডোলের বাজারে সুযোগ নিচ্ছে একদল অসাধু চক্র। প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে নিত্যনতুন আর্থিক স্ক্যাম। তরুণ তরুণী থেকে প্রবীণ নাগরিক —কেউই এই জাল থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। বিনিয়োগের লোভ দেখিয়ে কিংবা ভয় দেখিয়ে মানুষের সারা জীবনের সঞ্চয় লুট করে নেওয়া হচ্ছে। মানুষ কেন বারবার এই ফাঁদে পা দিচ্ছে? এর মূল কারণ হলো তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং আমাদের যাচাই না করার মানসিকতা। আমরা শেয়ার বাটনে ক্লিক করতে যতটা দ্রুত, সত্যতা যাচাই করতে ততটাই আলস্য বোধ করি।
এই ডিজিটাল দাসত্ব থেকে মুক্তির পথ কী? উত্তরটা খুব সহজ—সচেতনতা। আমাদের বুঝতে হবে, ইন্টারনেটে যা দেখা যায় তার সবটুকু সত্যি নয়। যেকোনো খবর বিশ্বাস করার আগে তার উৎস বা সোর্স যাচাই করা জরুরি। আমাদের মস্তিষ্ককে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে পুরোপুরি সঁপে দিলে চলবে না। প্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে হবে নিজের প্রয়োজনে, প্রযুক্তির গোলাম হওয়ার জন্য নয়।সরকার এবং প্রশাসনের যেমন কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তেমনই আমাদেরও ব্যক্তিগত স্তরে সতর্ক হতে হবে। কোনো খবর বা ভিডিওর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে তা ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। মনে রাখবেন, আপনার একটা ভুল ‘শেয়ার’ বা ‘লাইক’ অন্য কারো বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। সচেতনতাই একমাত্র কবচ যা আমাদের এই ডিজিটাল মায়াজাল থেকে বাঁচাতে পারে। নিজের বিচারবুদ্ধিকে সজাগ রাখুন, গুজবে কান দেবেন না। সত্যের জয় হোক আমাদের সচেতনতায়।।
