
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সাময়িক স্বস্তি মিললেও অনিশ্চয়তা কাটেনি SSC চাকরি হারানো শিক্ষকদের জীবনে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁদের চাকরির মেয়াদ কিছুদিনের জন্য বর্ধিত করা হলেও, ভবিষ্যৎ কী তা নিয়ে এখনও অন্ধকারেই রয়েছেন তাঁরা। কবে স্থায়ী সমাধান মিলবে, আদৌ মিলবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না চাকরি হারানো শিক্ষকরা।
এই অনিশ্চয়তার আবহেই বারবার রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন পরিষেবা দেওয়ার পর হঠাৎ চাকরি হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন তাঁরা। আদালতের নির্দেশে সাময়িক মেয়াদ বৃদ্ধি হলেও তা যে স্থায়ী সমাধান নয়, সে কথা স্পষ্ট জানাচ্ছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
শুক্রবারও সেই দাবিতেই বিকাশ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন চাকরি হারানো শিক্ষকরা। প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হলেও, সেই আশ্বাসে পুরোপুরি ভরসা রাখতে পারছেন না আন্দোলনকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, অতীতেও একাধিকবার আশ্বাস মিলেছে, কিন্তু বাস্তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এই আন্দোলনের পাশাপাশি আরও এক গুরুতর সামাজিক প্রশ্ন সামনে আসছে। দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষম চাকরি প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ। SSC সংক্রান্ত জটিলতার জেরে এই প্রার্থীরাও কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে। তাঁদের জন্য আলাদা করে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট ঘোষণা নেই।
এদিকে বিকাশ ভবনে টানা চার দিন ধরে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন ২০২২ সালের টেট উত্তীর্ণ বিশেষভাবে সক্ষম চাকরি প্রার্থীরাও। তাঁদের দাবি, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে যাওয়ায় তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের একটাই প্রশ্ন যোগ্য হয়েও যদি চাকরি না মেলে, তবে তাঁদের ভবিষ্যৎ কোথায়? উত্তরহীন সেই প্রশ্নই আজ ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্দরে।
