
অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তান ‘ঐশ্বরিক সাহায্য’ পেয়েছিল এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। ঘটনার প্রায় সাত মাস পর তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, চার দিনের সংঘাতে ভারতের কাছে কার্যত পরাস্ত হওয়ার পর এই ধরনের বক্তব্য পাকিস্তানের সেনা নেতৃত্বের অস্বস্তিরই প্রতিফলন।
এই মাসের শুরুতে ইসলামাবাদে আয়োজিত জাতীয় উলামা সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আসিম মুনির বলেন, “মে মাসে ভারতের সঙ্গে চার দিনের সংঘাতের সময় আমরা অনুভব করেছি যে পাকিস্তান ঐশ্বরিক সাহায্য পেয়েছিল।” যদিও বাস্তবে ওই সংঘাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে একাধিক ফ্রন্টে চাপের মুখে পড়তে হয় এবং কৌশলগত দিক থেকে সুবিধা নিতে পারেনি ইসলামাবাদ।
ভারত প্রসঙ্গের পাশাপাশি আফগানিস্তান নিয়েও তীব্র ভাষায় সতর্কবার্তা দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান। তিনি স্পষ্ট করে জানান, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাস ছড়ানোর জন্য আফগানিস্তানই দায়ী। তাঁর অভিযোগ, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র প্রায় ৭০ শতাংশ সদস্য আফগানিস্তান থেকে অনুপ্রবেশ করেছে। এই সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের নিরীহ শিশুদের রক্ত ঝরছে বলেও দাবি করেন মুনির।
আফগান তালিবান শাসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পাকিস্তান ও টিটিপি এই দু’টির মধ্যে যে কোনও একটিকে বেছে নিতে হবে কাবুলকে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় অনুমতি ছাড়া কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জিহাদের ডাক দেওয়ার অধিকার নেই। তাঁর বক্তব্য, “কর্তৃপক্ষের আদেশ, অনুমতি ও ইচ্ছা ছাড়া কেউ জিহাদের ফতোয়া জারি করতে পারে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সঙ্গে সংঘাতে ব্যর্থতার পর ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ভাষ্যকে সামনে এনে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা করছেন আসিম মুনির। তবে এই ধরনের বক্তব্য দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলেই মত কূটনৈতিক মহলের।
