
শিল্পী লগ্নজিতা চক্রবর্তী সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়ে নজিরবিহীন হেনস্থার শিকার হন। ঘটনা ঘটে পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরে, যেখানে তিনি উৎসবের মরসুমে দর্শকদের জন্য পারফর্ম করতে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন, তাঁর সপ্তম গান ‘জাগো মা’ সম্পন্ন হওয়ার পর অষ্টম গান শুরু করার আগেই এক ব্যক্তি মেহবুব মল্লিক স্টেজের দিকে ছুটে আসেন। লগ্নজিতা জানিয়েছেন, “উনি মারমুখী হয়ে স্টেজের দিকে আসছিল। উপস্থিত দর্শক ও অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা তাঁকে ধরে সরিয়ে নেন।” মেহবুব চিৎকার করে বলেছিলেন, “এবার সেকুলার গান!”।
ঘটনার পরই লগ্নজিতা সোমবার একটি অনুষ্ঠানে সেই একই গানকে ‘সেকুলার’ হিসেবে উল্লেখ করে গেয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেহবুব মল্লিক একজন ব্যবসায়ী ও স্কুলমালিক এবং তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ভগবানপুর থানার ওসি শাহেনশাহ হক অভিযোগ গ্রহণে গাফিলতি ও তদন্তে অনিয়মের জন্য বিভাগীয় তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন।
এই ঘটনার পর শিল্পী সমাজ ও রাজনৈতিক মহল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। বাংলার সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই ধরনের ঘটনা একেবারেই নজিরবিহীন ও অপ্রত্যাশিত বলে মত প্রকাশ করছেন অনেকেই। লগ্নজিতার সাহসিকতা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার বার্তা একটি শক্তিশালী উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি দেখিয়েছেন যে, হুমকির মুখেও শিল্পীকে স্বাধীনভাবে প্রকাশের অধিকার রক্ষা করতে হবে।
এছাড়াও, দর্শক ও অনুরাগীরা তাঁর সাহস এবং দৃঢ় মনোভাবের প্রশংসা করেছেন। সংগীতপ্রেমীরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনার প্রতিবাদ এবং মুক্তমঞ্চে শিল্পীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। লগ্নজিতার এই কায়দা অন্য শিল্পীদেরও অনুপ্রাণিত করবে তাদের স্বাধীনতা রক্ষা করতে।
এই ঘটনাটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে, যেখানে প্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার মূল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লগ্নজিতা চক্রবর্তী প্রমাণ করেছেন যে, কোনো হুমকি তাঁকে থামাতে পারবে না, এবং শিল্পের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি সম্ভব।
