
বাংলাদেশে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। সাম্প্রতিক হিংসা ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ফের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর দল আওয়ামি লিগকে নিশানা করলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে ফোনালাপে ইউনূস অভিযোগ করেন, আওয়ামি লিগের পলাতক নেতারা দেশে হিংসা উস্কে দিচ্ছেন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় প্রায় আধ ঘণ্টা ফোনে কথা হয় ইউনূস ও মার্কিন দূতের। সেই আলোচনায় ইউনূস জানান, দেশের মানুষ বহুদিন পর আবার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেতে চলেছে, যা স্বৈরাচারী শাসনামলে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তাঁর কথায়, “নির্বাচনের আর প্রায় ৫০ দিন বাকি। আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে বদ্ধপরিকর।”
ইউনূস আরও বলেন, নিষিদ্ধ হলেও আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মীরা এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, অন্তর্বর্তী সরকার যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং নির্বাচন বানচাল করতে দেওয়া হবে না। কথোপকথনে সাম্প্রতিক হিংসা ও শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও উঠে আসে।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ থাকায় আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগ। তবুও বাংলাদেশি রাজনীতিতে দলটির প্রভাব ও প্রাসঙ্গিকতা এখনও রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সব জল্পনার মাঝেই ইউনূস পুনরায় আশ্বাস দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়েই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে এবং তা হবে দেশের গণতন্ত্রের জন্য স্মরণীয়।
