
মধ্যেই পাল্টে গেল বালিগঞ্জের রাজনৈতিক সমীকরণ। একাধিক বিতর্কের জেরে নিশা চট্টোপাধ্যায়ের নাম বাতিল করে নতুন প্রার্থী ঘোষণা করলেন ভরতপুরের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হচ্ছেন প্রাক্তন পুলিশ অফিসার আবুল হাসান।
সোমবারই নতুন দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’র আত্মপ্রকাশ করেন হুমায়ুন কবীর। সেই মঞ্চ থেকেই তিনি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে একশোর বেশি আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা করেন এবং প্রথম দফায় ১০টি আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন। সেই তালিকায় বালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে নিশা চট্টোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু রাত পোহানোর আগেই বদলে যায় সিদ্ধান্ত।
হুমায়ুন কবীরের দাবি, নিশা চট্টোপাধ্যায়ের বিষয়ে আগে তাঁর স্পষ্ট ধারণা ছিল না। এক পরিচিতের সুপারিশে তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছিল। তবে নাম ঘোষণার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও ও ছবি দেখার পর তিনি সিদ্ধান্তে পৌঁছন, বিধানসভার মতো পবিত্র জায়গার জন্য এই ধরনের ব্যক্তি উপযুক্ত নন। সেই কারণেই দ্রুত নিশার নাম প্রত্যাহার করা হয়।
অন্যদিকে, নিশা চট্টোপাধ্যায় এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, ভিডিও নয়, তাঁর ধর্মীয় পরিচয়ের কারণেই প্রার্থী তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশ্যে এসে নিশা বলেন, প্রথমে সব ঠিক থাকলেও হঠাৎ করেই পরিস্থিতি বদলে যায়। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই তাঁকে নানা কটাক্ষ ও সামাজিক চাপে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, ভিডিও বিতর্কের আড়ালে অন্য কোনও সমীকরণ কাজ করছে কি না। নতুন দল গঠনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রার্থী বদলের সিদ্ধান্ত জনতা উন্নয়ন পার্টির অন্দরেই অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। বালিগঞ্জে আবুল হাসানকে সামনে রেখে হুমায়ুন কবীর কতটা প্রভাব ফেলতে পারবেন, এখন সেটাই দেখার।
