
ঢাকার রাজনীতিতে ফের তীব্র উত্তেজনা। ছাত্রনেতা ও যুব আন্দোলনের পরিচিত মুখ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ঘিরে সরাসরি অন্তর্বর্তী সরকারকে কাঠগড়ায় তুলল তাঁর পরিবার। নিহত নেতার দাদা শরিফ ওমর বিন হাদি স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেছেন, এই খুনের সম্পূর্ণ দায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ও তার প্রশাসনিক ব্যর্থতার।
সংবাদমাধ্যমের সামনে ওমর বলেন, যে সময় তাঁর ভাইকে গুলি করে খুন করা হয়, তখন ক্ষমতায় ছিল মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা অস্বীকার করার কোনও সুযোগ নেই। তাঁর দাবি, এটি নিছক রাজনৈতিক হিংসা নয়, বরং সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যার উদ্দেশ্য আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে অস্থির করা।
ওমরের অভিযোগ, নির্বাচন প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছিলেন ওসমান হাদি। সেই কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়। তাঁর কথায়, একজন উদীয়মান নেতাকে সরিয়ে দিয়ে গোটা ঘটনাকে রাজনৈতিক ইস্যু বানানোর চেষ্টা চলছে, যা সরাসরি গণতন্ত্রের উপর আঘাত।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় প্রচার চলাকালীন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা মাথায় গুলি করে ৩২ বছরের ওসমান হাদিকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু হয়।
হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাংলাদেশের একাধিক এলাকায় বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও অশান্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। শনিবার ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের কাছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবর সংলগ্ন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন লক্ষাধিক মানুষ।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে শোকের আবহের মধ্যেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, এই খুন কি শুধুই রাজনৈতিক সহিংসতা, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে আরও গভীর কোনও চক্রান্ত? বাংলাদেশের রাজনীতি এখন সেই উত্তর খুঁজতেই ব্যস্ত।
