
আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ের সুর বেঁধে দিতে মথুরাপুরে আয়োজিত ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’ থেকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ২০১১ সালের পরিবর্তনের স্লোগানকে কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে কোনো প্রকৃত বদল আসেনি; বরং নিচুতলায় চরম হিংসা ও বদলা নেওয়ার রাজনীতি কায়েম হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী এদিন সরাসরি অভিযোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনকল্যাণকর প্রকল্পগুলোকে রাজ্য সরকার নিজেদের নামে চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার ৫০০০ টাকা বরাদ্দ করলে, রাজ্য সরকার সেই প্রকল্পের নাম বদলে ৩০০০ টাকা দিয়ে নিজেদের স্টিকার মারছে।” আয়ুষ্মান ভারত এবং মৎস্যজীবীদের জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো কেন রাজ্যে কার্যকর হতে দেওয়া হয়নি, তা নিয়ে তিনি সরব হন। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে বাংলার সাধারণ মানুষ কেন্দ্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ভোটের পরবর্তী হিংসা ও মিথ্যা মামলার প্রসঙ্গ তুলে বিরোধী দলনেতা বলেন, “ভোটের সময় বুথে বসা সাহসী যুবকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।” প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে দমাতে গুচ্ছ গুচ্ছ মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে তিনি হুঙ্কার দেন, “যে রাজ্যে বাক-স্বাধীনতা নেই, সেই রাজ্য পঙ্গু হয়ে গেছে।” তবে দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়িয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান অন্যায়ের হিসাব সুদে-আসলে বুঝে নেওয়া হবে। কর্মীদের উদ্দ্যেশ্যে তাঁর বার্তা— “যাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে, তারা এবার ঘুরে দাঁড়ান। চুরির দিন শেষ, আর ছাড় দেওয়া হবে না।”
রাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শুভেন্দু বলেন, “রাজ্যে কোনো শিল্প নেই, কর্মসংস্থান নেই। পরিযায়ী শ্রমিকদের সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।” কর্মসংস্থান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অতীতে দেওয়া পরামর্শকে বিঁধে তিনি বলেন, “যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বাড়ি থেকে চা-ঘুগনি নিয়ে প্ল্যাটফর্মে বসে বিক্রি করার উপদেশ দেন, সেই রাজ্যের আর কোনো ভবিষ্যৎ অবশিষ্ট নেই।” এর পাশাপাশি সিন্ডিকেট রাজ, স্বজনপোষণ করে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া এবং গরু ও কয়লা পাচারের মতো দুর্নীতির অভিযোগে তিনি তৃণমূলকে বিদ্ধ করেন।
শুভেন্দু অধিকারী এদিন সভায় স্পষ্ট করে দেন যে, তৃণমূলের বিকল্প হিসেবে বিজেপিই একমাত্র পথ। চুরিমুক্ত প্রশাসন এবং শিল্পসমৃদ্ধ বাংলার স্বপ্ন দেখিয়ে তিনি উপস্থিত জনতাকে ‘পরিবর্তন সংকল্প’ নেওয়ার আহ্বান জানান। আজকের এই সভায় সমর্থকদের ভিড় এবং শুভেন্দুর আগ্রাসী মেজাজ আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণকে যে আরও উত্তপ্ত করবে, তা বলাই বাহুল্য।।
