
কলকাতার মেয়র ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে ঘিরে ‘মিনি পাকিস্তান’ ও সংখ্যালঘু সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। সেই বিতর্কের মাঝেই দ্য ওয়াল-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে ফিরহাদ জানান, প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার কোনও ইচ্ছে তাঁর নেই, সমালোচনাও শুনতে প্রস্তুত।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে একটি অনুষ্ঠানে করা তাঁর মন্তব্য ‘একদিন আমরা সংখ্যাগুরু হব’ এই বক্তব্য ঘিরেই মূল বিতর্ক। এ প্রসঙ্গে ফিরহাদ হাকিম বলেন, তাঁর কথার ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, তিনি কখনও ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কথা বলেননি। বরং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা সম্প্রদায়, বিশেষ করে মুসলিম সমাজের ওবিসি অংশ ও জনজাতিদের উন্নয়নের কথাই তিনি বলেছিলেন। সেই বক্তব্যকে সাম্প্রদায়িক রঙ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
‘মিনি পাকিস্তান’ মন্তব্য নিয়ে আরও একধাপ এগিয়ে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন ফিরহাদ। তাঁর সাফ কথা, কেউ প্রমাণ করতে পারলে যে তিনি এমন শব্দ ব্যবহার করেছেন, তবে শুধু পদ নয়, রাজনীতিই ছেড়ে দেবেন। একইসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে কমিউনাল রাজনীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “আমি মুসলিম বলেই পাকিস্তানের ছাপ মারা হচ্ছে।” তবে ভারতের স্বার্থে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেন ভারতের শত্রু তাঁরও শত্রু।
সাক্ষাৎকারে উঠে আসে সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর প্রসঙ্গও। ফিরহাদের দাবি, মুসলিম ভোট ভাগ করে বিজেপিকে সুবিধা করে দেওয়াই এই ধরনের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের উদ্দেশ্য। তৃণমূল সেই ফাঁদে পা দেবে না বলেই জানান তিনি।
দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্নে দলকে রক্ষা করলেও ব্যক্তিগত দায়ের কথা স্বীকার করেন ফিরহাদ। তাঁর বক্তব্য, কোনও ব্যক্তি দুর্নীতি করলে তার দায় দলের ঘাড়ে চাপানো ঠিক নয়। সবশেষে অরূপ বিশ্বাস বিতর্কেও বন্ধুর পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপি শাসিত রাজ্যের উদাহরণ টেনে আক্রমণ শানান তিনি।
সব মিলিয়ে, বিতর্কের মাঝেই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও আত্মবিশ্বাস নতুন করে তুলে ধরলেন ফিরহাদ হাকিম।
