
১৭ বছর পর স্বদেশে ফিরলেন বিএনপির কার্যনির্বাহী চেয়ারপারসন তারেক জিয়া। দীর্ঘ লন্ডনবাস শেষ করে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন তৈরি করেছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে, সেখানে তারেক জিয়ার ফিরে আসাকে অনেকেই ‘প্লাস ওয়ান’ হিসেবে দেখছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁকে ঘিরেই বিএনপির মূল রাজনৈতিক কৌশল আবর্তিত হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তবে এই প্রত্যাবর্তন যতটা রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে, ততটাই জড়িয়ে রয়েছে নিরাপত্তার প্রশ্ন। হামলার আশঙ্কা নিয়েই দেশে ফিরেছেন তারেক। সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি বিএনপিও নিজস্ব নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে চাইছে বলে জানা যাচ্ছে। দলীয় সূত্রে খবর, তারেক কতটা স্বাধীন ও নিরাপদ পরিবেশে রাজনীতি করতে পারবেন, তা নিয়েই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ।
২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতির একাধিক মামলায় গ্রেফতার হয়ে চিকিৎসার অজুহাতে লন্ডনে গিয়েছিলেন তারেক। পরে আর দেশে ফেরা হয়নি। শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির কারণে রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন কার্যত অসম্ভব ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট সরকার পতনের পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। উচ্চ আদালতের রায়ে সমস্ত মামলা থেকে নিষ্কৃতি পান তিনি, ফলে আইনগত বাধা আর থাকে না।
বিএনপির অন্দরমহলে দাবি, দল ক্ষমতায় এলে তারেকই হবেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও তাঁর অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা ও একসময় ‘হাওয়া ভবন’ কেন্দ্রিক অভিযোগ এখনও তাঁকে তাড়া করছে। সেনাবাহিনীর একটি অংশ তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে অসন্তুষ্ট বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
সব মিলিয়ে তারেক জিয়ার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। তবে এই অধ্যায় কতটা মসৃণ হবে, না কি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে ভরা থাকবে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে দেশ ও বিদেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
