
বছরের শেষ দিনে উৎসবের আনন্দে বড় ধাক্কা খেতে পারেন গ্রাহকরা। সুইগি, জোমাটো, ব্লিঙ্কিট, জেপ্টো, অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট-সহ বিভিন্ন অনলাইন ডেলিভারি ও ই-কমার্স সংস্থার গিগ ওয়ার্কাররা ৩১ ডিসেম্বর দেশজুড়ে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন। এর ফলে ওই দিন অনলাইন খাবার বা ইনস্ট্যান্ট ডেলিভারি পরিষেবা কার্যত বন্ধ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
গিগ ওয়ার্কারদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের ওপর অমানবিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। উৎসবের মরশুম বা পিক আওয়ারে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডেলিভারি দিতে গিয়ে জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে ‘১০ মিনিট ডেলিভারি’ ব্যবস্থাকে পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন কর্মীরা। তাঁদের বক্তব্য, এই দ্রুত ডেলিভারি পলিসির কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে এবং মানসিক চাপও চরমে পৌঁছচ্ছে।
তেলেঙ্গানা গিগ অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (TGPWU) এবং ইন্ডিয়ান ফেডারেশন অব অ্যাপ বেসড ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ন্যায্য ও স্বচ্ছ বেতন কাঠামো না থাকায় কর্মীদের আয় ক্রমশ কমছে। পাশাপাশি সামান্য অভিযোগে আইডি ব্লক করা, অযৌক্তিক জরিমানা, কাজের কোনও নিশ্চয়তা না থাকা এবং পর্যাপ্ত সেফটি গিয়ার না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
কর্মীদের আরও দাবি, নির্দিষ্ট কাজের সময়, বাধ্যতামূলক বিশ্রাম, স্বাস্থ্য বিমা, দুর্ঘটনা কভারেজ, পেনশন এবং টেকনিক্যাল সাপোর্টের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের কাছ থেকেও মানবিক আচরণ প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।
২৫ ডিসেম্বর আংশিক কর্মবিরতির পর ৩১ ডিসেম্বর আরও বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিয়নগুলি। ফলে বছরের শেষ দিনে পার্টি, উৎসব বা ঘরোয়া আয়োজনের জন্য অনলাইন অর্ডারের ওপর ভরসা করলে সমস্যায় পড়তে পারেন গ্রাহকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
