
তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আবারো সরব হয়েছেন এসআইআর (Special Intensive Review) সংক্রান্ত বিতর্কে। বুধবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ৩১ ডিসেম্বর নিজেই দিল্লি যাচ্ছেন, যাতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করে খসড়া তালিকা ও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারেন। অভিষেক দাবি করেন, গত দুই মাসে বিএলওদের (Booth Level Officers) ওপর এসআইআর-এর চাপ ও অপরিকল্পিত কার্যক্রমের কারণে পাঁচ জনের মৃত্যু ঘটেছে এবং ২৯ জন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ এসআইআর ও NRC-এর আতঙ্কে মানসিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন, কেন বাংলায় এতগুলো লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি দেখা গেল, যেখানে ১ কোটি ৩৬ লক্ষের মতো নাম অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। অন্য রাজ্যে সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে, কিন্তু বাংলায় একই দিনে সব যাচাইয়ের পরে এই সংখ্যা জানানো হয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কমিশনের খসড়া তালিকা প্রকাশ না করলে ৩১ তারিখ দিল্লিতে গিয়ে অফিস ঘেরাও করবেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন শুধুমাত্র বাংলাকে লক্ষ্য করে মানুষকে আতঙ্কিত করা হচ্ছে, যখন অন্যান্য রাজ্যে এমন বিধান হয়নি। এছাড়া তিনি বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে দেশের কিছু অংশে জনসংখ্যা-অভিযান ও বাদ পড়া ভোটারের তুলনা তুলে ধরেন।
তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, তৃণমূলই একমাত্র দল যারা মানুষের অধিকার রক্ষা ও প্রতিবাদ গড়ে তুলেছে। একই সঙ্গে তিনি কমিশনের কাছে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জানিয়েছিলেন, যা আজও কোনো সদুত্তর পাননি।
অভিষেকের বক্তব্যে উঠে এসেছে, নির্বাচনের নামে বাংলার মানুষকে প্রহসন ও প্রশাসনিক জটিলতায় ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি জানান, আগামী ২ জানুয়ারি থেকে রাস্তায় জনসভা, রোড শো এবং আলাপচারিতার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের ১৫ বছরের কাজ তুলে ধরবেন। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের সমর্থন থাকায় বিজেপি ক্ষমতায় আসতে পারবে না।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলায় রাজনৈতিক ও সামাজিক সঙ্গতি বজায় রাখতে হলে নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ অপরিহার্য।
