
হিঙ্গলগঞ্জের পর এবার মালদহের চাঁচোল। ফের প্রশাসনের আপত্তিতে বাতিল হলো বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জনসভা। আগামী ২রা জানুয়ারি চাঁচোলে সভার কথা থাকলেও, পরিকাঠামো ও নিরাপত্তার অভাব দেখিয়ে অনুমতি দেয়নি এসডিও (SDO) দপ্তর। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ উগরে দিয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, এই নিয়ে মোট ১০৩ বার তাঁর সভার অনুমতি বাতিল করল তৃণমূল সরকার। তবে দমে যেতে নারাজ বিজেপি; এর প্রতিকার চেয়ে আগামী ২৯শে ডিসেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের ভ্যাকেশন বেঞ্চে আবেদন জানানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
শনিবার মালদহের মহম্মদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্ল্যাটিনাম জুবিলি উৎসবে যোগ দেন বিরোধী দলনেতা। সেখান থেকেই রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে সরব হন তিনি। শুভেন্দু অভিযোগ করেন, “গত ১৫ বছরে এই সরকারের আমলে কয়েক হাজার সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পরীক্ষা ব্যবস্থা এখন কেবলই প্রহসনে পরিণত হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, আজকে সকালেও মণ্ডল সভাপতির ভাইকে সম্পূর্ণ মিথ্যে অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শুভেন্দুর দাবি, “উন্নয়নের পাঁচালীর একটি টোটো পুকুর পাড়ে রাখা ছিল, যা কেউ ভাঙচুর করেনি। অথচ সেই অজুহাতে প্রতিহিংসার রাজনীতি চরিতার্থ করছে প্রশাসন।”
বিরোধীদের দাবি, ভোটের আগে তৃণমূলের ‘গুন্ডারাজ’ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট একটি ধর্মের মানুষের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন শুভেন্দু। তিনি সাফ জানান, এই সরকারের মেয়াদ আর মাত্র মাস দেড়েক; নির্বাচন ঘোষণা হলে আর শাসকদলের মর্জিতে চলতে হবে না।
সাংবাদিকদের SIR সংক্রান্ত হিয়ারিং প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন শুভেন্দু। তিনি জানান, সাধারণ মানুষ এবং বিচারপ্রার্থীদের সহায়তার জন্য সর্বত্র SIR হেল্প ডেস্ক চালু করা হয়েছে। যে কোনো সমস্যায় বা তথ্য জানতে সেখানে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তবে চাঁচোলে সভার অনুমতি না মেলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে অগণতান্ত্রিক আচরণের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিরোধী দলনেতা। এখন আদালতের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত ২রা জানুয়ারির সভা দিনের আলো দেখে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
