
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ফের কাছাকাছি আসতে শুরু করেছে বাম এবং আইএসএফ। একুশের ‘সংযুক্ত মোর্চা’র ফর্মুলা চব্বিশের লোকসভায় কাজ না করলেও, ছাব্বিশে তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী ভোট এককাট্টা করতে মরিয়া ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। সেই লক্ষ্যেই শনিবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএম তথা বামফ্রন্ট নেতৃত্বের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টা দীর্ঘ বৈঠক করলেন তিনি।
জোটের প্রস্তাব দিয়ে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারকে ইমেল পাঠিয়েছিলেন নওশাদ। কংগ্রেসের তরফে এখনও কোনও উচ্চবাচ্য না মিললেও, সিপিএমের তরফে ইতিবাচক সাড়া পেয়েই এদিন আলিমুদ্দিনে হাজির হন আইএসএফ চেয়ারম্যান। বৈঠকে বিমান বসু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নওশাদ সিদ্দিকী স্পষ্ট জানান, জোটের স্বার্থে তাঁর দল বড়সড় ‘আত্মত্যাগ’ করতেও পিছপা হবে না। তবে আসন সংখ্যা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনায় তিনি জানিয়েছেন, আইএসএফ-এর দাবি যেন দুই অঙ্কের হয়। অর্থাৎ, অন্তত ১০টির বেশি আসনে লড়তে চায় তাঁর দল।
নওশাদের কথায়:
“আমরা বিজেপি ও তৃণমূল বিরোধী শক্তিগুলোকে একজোট করতে চাই। কোন কেন্দ্রে কোন দলের প্রার্থী দিলে ফল ভালো হবে, তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। নির্দিষ্ট আসন ধরে নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে কথা হয়েছে।”
একুশের নির্বাচনে সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী হিসেবে ভাঙড় থেকে জয়ী হয়েছিলেন নওশাদ। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে জট না কাটায় বাম-আইএসএফ আলাদা লড়েছিল, যার ফলশ্রুতিতে দুই পক্ষই খালি হাতে ফিরেছে। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগেভাগেই ‘মসৃণ’ জোট নিশ্চিত করতে চাইছেন নওশাদ। তিনি সাফ জানান, যারা যেখানে শক্তিশালী, তাদের সেখানে সমর্থন জোগানোই হবে জোটের মূল কৌশল।
রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভায় শূন্য হাতে ফেরার পর বামেদের কাছেও এই জোট অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তবে আইএসএফ-এর দাবি অনুযায়ী আসন ছাড়তে বাম শরিকরা কতটা রাজি হবে, সেটাই এখন দেখার। নওশাদ জানিয়েছেন, আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে এবং পরিস্থিতি ঠিক থাকলে শীঘ্রই আসন সমঝোতার চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হবে।
২০২৬-এ বাম-আইএসএফ রসায়ন কি পারবে তৃণমূল-বিজেপি দ্বিমুখী লড়াইয়ে ফাটল ধরাতে? আলিমুদ্দিনের এই বৈঠক সেই জল্পনাই উসকে দিল।।
