
ঝাড়খণ্ডের টাটানগর থেকে কেরলের এর্নাকুলামগামী টাটা–এরনাকুলাম এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার গভীর রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের আনাকাপল্লি জেলার কাছে চলন্ত ট্রেনের এসি কোচে আগুন লেগে এক যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলেও সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে দু’টি এসি কোচ।
রেলসূত্রে জানা গিয়েছে, রাত প্রায় ১টা নাগাদ ট্রেনটি দ্রুত গতিতে এগোচ্ছিল। হঠাৎ চালকের নজরে আসে একটি এসি কোচ থেকে আগুনের শিখা উঠছে এবং তা পাশের কোচের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন থামিয়ে যাত্রীদের নামানো হয়। আগুন লাগা কোচ এবং সংলগ্ন কোচ থেকে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। তবে দুর্ভাগ্যবশত চন্দ্রশেখর সুন্দরম নামে এক যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা যায়নি। আগুনে ঝলসে তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বি১ এসি কোচে প্রথম আগুন লাগে, যা দ্রুত বি২ কোচে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন যাতে গোটা ট্রেনে ছড়িয়ে না পড়ে, সেই কারণে এম১ কোচ থেকে আগুন লাগা অংশটি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এই দ্রুত সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে বলে রেল আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
ঘটনাস্থলে রাতেই পৌঁছে যায় দমকল বাহিনীর চারটি ইঞ্জিন। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কোচ দু’টি সম্পূর্ণ পুড়ে গেলেও অধিকাংশ যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বি১ কোচে ৮২ জন এবং বি২ কোচে ৭৬ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। রেলমন্ত্রক জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনও কারণে এই অগ্নিকাণ্ড তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় রেলযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
