
বছরশেষের বিবৃতিতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার। তাঁর বক্তব্যে, ওই অভিযানের সময় টানা ৩৬ ঘণ্টায় ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের দিকে ৮০টি ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। তবে পাক সেনার তৎপরতায় তার মধ্যে ৭৯টি ড্রোনই আটকানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
ইশাক দারের কথায়, “ভারত থেকে একটানা ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। আমরা প্রায় সবই প্রতিহত করেছি। কিন্তু পরে নুর খান বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ভারত ভুল করে ফেলে। তার জবাব দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তানও।” যদিও এই দাবির পক্ষে কোনও প্রামাণ্য নথি বা তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।
চার দিনের সংঘাতের পর কী ভাবে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তা নিয়েও বিস্তারিত মন্তব্য করেছেন পাক বিদেশমন্ত্রী। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বার বার দাবি করে আসছেন যে, তাঁর মধ্যস্থতায়ই দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ থেমেছে। ভারত সরকার সেই দাবি অস্বীকার করে জানায়, দু’দেশের সামরিক স্তরের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হয়। তবে পাকিস্তান বরাবরই আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার কথা বলে এসেছে।
দারের দাবি, গত ১০ মে সকাল ৮টা ১৭ মিনিটে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো তাঁকে ফোন করে জানান, ভারত সংঘর্ষবিরতিতে রাজি। এরপর পাকিস্তানও সম্মতি দেয়। একই সঙ্গে সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রীও এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা নেন বলে তাঁর বক্তব্য। পাকিস্তানের অনুমতি নিয়েই তিনি ভারতের সঙ্গে কথা বলেন বলে দাবি করেছেন দার।
এ ছাড়াও, সংঘর্ষ চলাকালীন ভারতের সাতটি যুদ্ধবিমান পাকিস্তানি বাহিনী ধ্বংস করেছে বলেও দাবি করেছেন পাক বিদেশমন্ত্রী। তবে এই সংক্রান্ত কোনও প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
