
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশসহ গোটা উপমহাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডেলে শোকবার্তায় লেখেন, “প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি সভানেত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোকাহত। তাঁর পরিবার এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা।” একই সঙ্গে তিনি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক মজবুত করতে খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন।
মোদী লেখেন, বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের উন্নয়ন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে খালেদা জিয়ার অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনি আরও জানান, ২০১৫ সালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের স্মৃতিও মনে পড়ছে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও উত্তরাধিকার ভবিষ্যতেও দুই দেশের সম্পর্ককে দিশা দেখাবে। শোকবার্তার শেষে তিনি প্রয়াত নেত্রীর আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন।
বিএনপি সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় খালেদা জিয়ার। মৃত্যুকালে তাঁর পুত্র তারেক রহমান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে কিডনি, লিভার ও হৃদরোগসহ একাধিক জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। গত মাসে তাঁর শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হলে তাঁকে বিশেষ নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া হয়।
খালেদা জিয়ার প্রয়াণে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা শোকপ্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি যুগের অবসান ঘটাল।
