
উত্তরপ্রদেশের এক স্বনামধন্য সরকারি মেডিকেল কলেজে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নার্সিং ছাত্রীকে একাধিকবার যৌন নির্যাতন ও পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ উঠেছে ওই কলেজেরই এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা মেডিকেল মহলে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে ওই নার্সিং ছাত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিয়ের আশ্বাস দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি। কিন্তু ছাত্রীটি যখন বিয়ের কথা চূড়ান্ত করতে চাপ দিতে শুরু করেন, তখনই অভিযুক্তের আচরণ বদলে যায়। অভিযোগ, বিয়ে করতে অস্বীকার করার পাশাপাশি ছাত্রীর কিছু ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁকে মুখ বন্ধ রাখতে বলা হয়।
ভুক্তভোগী ছাত্রী সাহস করে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে কায়সারবাগ থানায় একটি এফআইআর রুজু হয়। ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিসিপি) বিশ্বজিৎ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের বর্তমান অবস্থান ও স্থায়ী ঠিকানা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ভুক্তভোগীর বয়ান রেকর্ড করা হবে বলেও জানান তিনি।
উদ্বেগের বিষয়, গত ১৫ দিনের মধ্যেই ওই একই মেডিকেল কলেজে এ ধরনের দ্বিতীয় অভিযোগ সামনে এল। এর আগে এক নারী চিকিৎসক সহকর্মীর বিরুদ্ধে বিয়ের আগে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। সেই ঘটনাতেও অভিযুক্ত চিকিৎসক পলাতক রয়েছেন।
পরপর এমন অভিযোগে মেডিকেল কলেজের নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ছাত্রছাত্রী ও কর্মীদের একাংশের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
