
ইংরেজি নতুন বছরের শুরুতেই ভয়াবহ অশান্তিতে জর্জরিত ইরান। লাগামছাড়া মুদ্রাস্ফীতি ও রিয়ালের ভয়ঙ্কর দরপতনের জেরে মোল্লাতন্ত্র-বিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশে। রাজধানী তেহরান থেকে শুরু করে একাধিক শহরে পথে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রক্তাক্ত হয়েছে বিক্ষোভ। বিভিন্ন সূত্রে খবর, অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত বহু।
নিউ ইয়ারের দিন থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তেহরানের বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরসহ নানা এলাকায় ছাত্রছাত্রীরা “স্বৈরতন্ত্র নিপাত যাক” স্লোগান তুলে মিছিল করেন। বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নিলে শুরু হয় সংঘর্ষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন কার্যত হিমশিম খাচ্ছে।
এই আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে প্রাক্তন শাহের পুত্র রেজা পহলভির নাম। বিক্ষোভকারীদের একাংশের মুখে ‘শাহ জিন্দাবাদ’ স্লোগান শোনা গিয়েছে। বর্তমানে আমেরিকায় নির্বাসনে থাকা রেজা পহলভি সামাজিক মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। তাঁর এই অবস্থান ঘিরে আন্দোলনের নেপথ্যে বিদেশি প্রভাব রয়েছে কি না, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। এক মার্কিন ডলারের বিনিময়ে রিয়ালের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪২ হাজারেরও বেশি। মুদ্রাস্ফীতির হার ছুঁয়েছে ৪২ শতাংশ। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন কার্যত দুর্বিষহ।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আন্দোলনকারীদের দাবিদাওয়া শোনার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞা ও বিশেষ করে আমেরিকার ভূমিকার কারণেই ইরানের অর্থনীতি এমন সংকটে পড়েছে। সব মিলিয়ে, নতুন বছরের শুরুতেই ইরান যেন গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মুখে।
