
পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ইমরান খানের আইনি লড়াই দেশটির ইতিহাসে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসদমন আদালত আটজন সাংবাদিক ও ইউটিউবারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পর এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। আদালতের মতে, এই ব্যক্তিরা অনলাইনে ইমরান খানের সমর্থনে প্রচারণা চালিয়ে সমাজে ভয় ও অস্থিরতা ছড়িয়েছেন এবং জনগণকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছেন।
২০২৩ সালের ৯ মে ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পর পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। পিটিআই সমর্থকরা লাহোরের কোর কমান্ডার হাউজসহ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। আদালত এই ঘটনাগুলোকে ‘সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। রায়ে বলা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত আট সাংবাদিক ও ইউটিউবার তাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই হামলা ও সহিংসতায় উস্কানি দিয়েছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও বিশ্লেষক যেমন—ওয়াজাহাত সাইদ খান, সাবির শাকির, শাহীন সেহবাই এবং মইদ পিরজাদা। এদের অধিকাংশ দেশত্যাগী এবং বিদেশে বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অনুপস্থিতিতেই এই সাজা ঘোষণা করা হয়েছে।
ইমরান খানের জন্য আইনি জটিলতা কেবল ৯ মে-র সহিংসতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর তোষাখানা-২ দুর্নীতি মামলায় ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, রাষ্ট্রীয় উপহার নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজেদের কাছে রাখা বা বিক্রি করে তারা ব্যক্তিগত লাভবান হয়েছেন। বর্তমানে তারা দুজনেই রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি রয়েছেন।
এই রায়গুলো পাকিস্তানের রাজনীতি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইমরানের সমর্থকরা একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখলেও, সরকার ও সামরিক বাহিনী একে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে।
আদালতের এই কঠোর অবস্থান থেকে স্পষ্ট যে, পাকিস্তান সরকার ডিজিটাল মাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামরিক বাহিনী বা রাষ্ট্রের সমালোচনাকে আর হালকাভাবে নিতে রাজি নয়। এই পরিস্থিতি দেশটিতে ভিন্নমতের জায়গা যেমন সংকুচিত করছে, তেমনি আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।।
