
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বাস্তবতা কখনো কখনো অত্যন্ত কষ্টদায়ক। নদিয়ার চাপড়ার হাটখোলা সীমান্তে এমনই এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য ধরা পড়ল। দুই দশক পরও বাংলাদেশে বসবাস করা মেয়ে ওমেহার তার বাবার ইসরাফিল হালসানার শেষ দেখা পেলেন না। ৯০ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় মারা যাওয়া ইসরাফিলের দেহ কাঁটাতারের ওপাশে শায়িত ছিল, আর মেয়ে ওপাশে দাঁড়িয়ে চোখের জল দিয়ে তাকে শেষ বিদায় জানালেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহু বছর আগে ইসরাফিল তার মেয়েকে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গার কুতুবপুরে বিয়ে দিয়েছিলেন। তখন সীমান্ত অতিক্রম করা সহজ ছিল। কিন্তু দুই দশক আগে কাঁটাতারের বেড়া বসানো এবং পাসপোর্ট-আইন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বাবা-মেয়ের দেখা আর সম্ভব হয়নি। মৃত্যুর আগে বারবার মেয়ের কথা মনে পড়ায়, সীমান্তের ‘জিরো লাইনে’ এই চূড়ান্ত দেখা হয়।
কাঁটাতারের ওপাশে বাবা, আর ওপাশে কাঁদতে থাকা মেয়ে, মধ্যবর্তী লোহার বেড়া শুধু জমি ভাগ করেনি; ভাগ করেছে আবেগ, সম্পর্ক আর শেষ বিদায়ের অধিকার। স্থানীয় বিএসএফ জওয়ান ও বাসিন্দারাও এই দৃশ্য দেখে নিজ চোখের জল থামাতে পারেননি। হাতিশালা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আতিয়ার হালসোনা জানালেন, মেয়ের ইচ্ছা জানার পরই বিএসএফ এবং বিজিবি সহযোগিতায় বাবার দেহ জিরো লাইনে আনা হয়।
এই দৃশ্য শুধুই ইসরাফিল ও ওমেহারের নয়; এটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বসবাস করা শত শত মানুষের যন্ত্রণার প্রতিচ্ছবি। কাঁটাতারের ছায়া শুধু সীমান্ত নয়, আবেগ ও সম্পর্কের ওপরও বলপ্রয়োগ করেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরেও শেষ দেখা যে এমন হৃদয়বিদারক হতে পারে, তা এই ঘটনা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করল।
এই ঘটনায় সীমান্তবর্তী মানুষের জীবনের যন্ত্রণার নতুন মাত্রা প্রকাশ পেল, যা দেশভাগের পুরোনো ক্ষতকেও আবার তাজা করে তোলে।
