
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এখন আমেরিকার নিউ ইয়র্কের কুখ্যাত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার (এমডিসি) ব্রুকলিনে বন্দি। সোমবার তাঁকে সস্ত্রীক এই জেলে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই জেল এমনই বিতর্কিত যে, অতীতে একাধিক মার্কিন বিচারক সেখানে অভিযুক্তদের পাঠাতে আপত্তি জানিয়েছিলেন।
নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় তৈরি এমডিসি ব্রুকলিনে বর্তমানে প্রায় ১৩০০ বন্দি রয়েছেন। ম্যানহাটন ও ব্রুকলিনের ফেডারেল কোর্টে বিচারাধীন অভিযুক্তদের অস্থায়ী ঠিকানা এই জেল। গ্যাংস্টার, মাদক পাচারকারী থেকে শুরু করে হোয়াইট-কলার অপরাধে অভিযুক্তদেরও এখানে রাখা হয়। মানবাধিকার সংগঠন ও আইনজীবীদের একাংশ এই জেলকে বহুবার ‘মর্ত্যেই নরক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
মাদুরোকে আনার খবরে শনিবার রাত থেকেই জেলের বাইরে ভিড় জমাতে শুরু করেন নিউ ইয়র্কে থাকা ভেনেজুয়েলার প্রবাসীরা। হাতে দেশের পতাকা, স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কনভয় পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়েন তাঁরা। অনেকের ধারণা, ওই কনভয়েই ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রী।
এই জেলে এর আগেও রাষ্ট্রনেতাদের বন্দি থাকার নজির রয়েছে। হন্ডুরাসের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ এখানে বন্দি ছিলেন। আমেরিকায় বিপুল কোকেন পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তাঁর ৪৫ বছরের সাজা হয়েছিল। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমায় মুক্তি পান তিনি।
বর্তমানে এমডিসি ব্রুকলিনের কুখ্যাত বন্দিদের তালিকায় রয়েছেন মেক্সিকোর সিনালোয়া কার্টেলের নেতা ‘এল মায়ো’ জাম্বাদা এবং এক নামী কর্পোরেট সিইও খুনে অভিযুক্ত লুইজি ম্যাঞ্জিওনে। অতীতে এখানেই বন্দি ছিলেন ক্রিপ্টো ব্যবসায়ী স্যাম ব্যাঙ্কম্যান-ফ্রায়েড ও জেফ্রি এপস্টাইনের ঘনিষ্ঠ ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েল।
স্ট্যাচু অব লিবার্টির কাছেই অবস্থিত এই জেলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, সহিংসতা ও অব্যবস্থার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। যদিও সম্প্রতি ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজনস দাবি করেছে, পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সেই বিতর্কিত জেলেই আপাতত দিন কাটবে নিকোলাস মাদুরোর।
