
ময়নাগুড়ির রাজনৈতিক ময়দানে রবিবার বড়সড় চমক। তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের জনসভায়। দীর্ঘদিন তৃণমূলের দাপুটে নেতা ও ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি শিবম বাসুনিয়া এবং তাঁর ছেলে শশাঙ্ক বাসুনিয়া সুকান্ত মজুমদারের সভায় উপস্থিত হয়ে কার্যত দলবদলের ইঙ্গিত দেন। বিজেপি সূত্রের দাবি, তাঁদের সঙ্গে তৃণমূল ছেড়ে প্রায় ৩০০ জন কর্মী-সমর্থক বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন।
রবিবার ময়নাগুড়িতে আয়োজিত এই জনসভায় বিজেপির শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি রাজনৈতিক সমীকরণেও বড়সড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। উত্তরবঙ্গ বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। যদিও গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও, লোকসভা ভোটে বেশ কয়েকটি আসনে ঘাসফুল শিবির নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে বাসুনিয়া পরিবারের দলবদল তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ভোটের আগে এই দলবদল তৃণমূলের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়াবে বলে ধারণা। কারণ, উত্তরবঙ্গে বড় জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিকবার সফর করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই অঞ্চলে রাজনৈতিক কর্মসূচি সেরেছেন। তার মধ্যেই দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার অনুগামী-সহ বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়া তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
জনসভা থেকে সুকান্ত মজুমদার সরাসরি আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। ইডি সংক্রান্ত প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আইন ভেঙে কোনওভাবেই কাউকে রেয়াত করা হবে না। পাশাপাশি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বকেও কড়া ভাষায় নিশানা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্তদের এক ইঞ্চিও ছাড়া হবে না।
সব মিলিয়ে, ময়নাগুড়িতে এই দলবদল ২০২৬-এর আগে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়াল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
