
দাউ দাউ করে জ্বলছে ইরান। দেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভ এবার বিস্ফোরণের রূপ নিয়েছে। ইরানের একাধিক শহরে টানা বিক্ষোভে রাস্তায় নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট, লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব ও দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষুব্ধ সাধারণ জনগণ সরাসরি নিশানা করছেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই ও তাঁর প্রশাসনকে।
সংবাদ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরানের অর্থনীতি কার্যত ভেঙে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। খাবার, ওষুধ, জ্বালানির মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি তৈরি হয়েছে বহু এলাকায়। এরই প্রতিবাদে রাস্তায় নামা জনতার সঙ্গে একাধিক জায়গায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযোগ, বিক্ষোভ দমাতে গুলি চালানো হয়েছে, যাতে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, ইরানের বিদ্রোহী জনগণের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত আমেরিকা। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ইরানের মানুষ আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বাধীনতা চাইছে এবং সেই দাবিকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি আরও জানান, ইরানের পরিস্থিতি আমেরিকা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
অন্যদিকে, আয়াতুল্লাহ খামেনেই এই বিক্ষোভের জন্য আমেরিকা সহ বিদেশি শক্তির ষড়যন্ত্রকে দায়ী করেছেন। তাঁর দাবি, বাইরের প্ররোচনাতেই অশান্তি ছড়ানো হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানে এই গণবিক্ষোভ শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষের ফল। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন গোটা বিশ্বের নজরে। একদিকে জনতার ক্ষোভ, অন্যদিকে প্রশাসনের কঠোরতা, এই টানাপোড়েনে ইরানের ভবিষ্যৎ ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
