
কলকাতায় রাজনৈতিক ও তদন্ত মহলে চরম উৎকণ্ঠার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি আইপ্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি অভিযান সম্পন্ন হওয়ার এক সপ্তাহও পার হয়নি। সেই ঘটনার পর শহরে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ইডি ও সিবিআইয়ের সম্ভাব্য বড় অভিযানকে কেন্দ্র করে হইচই পড়েছে।
সূত্রের খবর, গত কয়েক দিনে দুই শতাধিক তদন্ত কর্মকর্তাকে কলকাতায় পাঠানো হয়েছে। তাদের জন্য সরকারি হস্টেল ও বিভিন্ন হোটেলে বন্দোবস্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এমন গুঞ্জন রয়েছে যে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বড় কোনো পদক্ষেপ হতে পারে। তৃণমূলের একাংশে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে যে কয়লা পাচার ও বেআইনি লেনদেনের অভিযোগে তিন জন মন্ত্রীর গ্রেফতার হতে পারে। একই সঙ্গে রাজ্যের এক প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর উপরও নজর রয়েছে।
ইডি এবং সিবিআইয়ের অভিযান সাধারণত পূর্বাভাস দেয় না। তবে শাসক দলের মধ্যে সাড়া পড়া এই গুজব এবং উৎকণ্ঠার মূল কারণ হতে পারে। কলকাতায় প্রতীক জৈনের ফ্ল্যাট ও আইপ্যাক অফিসে অভিযানকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। অভিযানের সময় পুলিশকর্মীদের ওপর বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা রয়েছে।
নিউ দিল্লি সূত্রের খবর, রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের অভিযান হবে, তা স্পষ্ট নয়। তবে কিছু আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তার নজরেই রয়েছে। শাসক দলের একাংশ উদ্বিগ্ন, আর বিজেপি নেতারা তা উৎসাহের সঙ্গে দেখছেন। সব মিলিয়ে কলকাতা ও রাজ্য রাজনীতিতে সামনের কয়েক দিন অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ কাটবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে নাগরিক এবং রাজনৈতিক মহলে আগ্রহের সঙ্গে প্রত্যাশা রয়েছে যে, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলি কি ধরণের পদক্ষেপ নেবে এবং এর রাজনৈতিক প্রভাব কেমন হবে।
