
হাইকোর্টের পর দেশের শীর্ষ আদালতেও জোরালো ধাক্কা তৃণমূল সরকারের। সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুক্তি টিকলোই না শেষমেষ। মুখ্যমন্ত্রী ইডির মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তে রাজ্যের এজেন্সির বাধার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান যেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। যাতে রাজ্যের আইন রক্ষকদের ঢাল করে কোন অভিযুক্ত বেঁচে যেতে না পারে! আমাদের মতে এই বিষয়ে বৃহত্তর প্রশ্ন জড়িয়ে। যদি এই প্রশ্নের মীমাংসা না হয় তবে পরিস্থিতি আরো জটিল হবে। সেখানে এক বা একাধিক রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে। কারণ এক একটি রাজ্যে এক একটি দল সরকার চালায়। উল্লেখ্য এর আগে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, দলের গুরুত্বপূর্ণ নথি আনতে গিয়েছিলাম। যেখানে তল্লাশি চালাচ্ছিল ইডি আধিকারিকেরা। আর এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি। বিচারপতি বলেন, এজেন্সি যখন কোন গুরুতরক বিষয়ের তদন্ত করছে তখন ক্ষমতা দেখিয়ে এজেন্সিকে আটকানো যায়? এদিকে ৮ তারিখের ঘটনার পর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফাইল চুরির অভিযোগ নিয়ে সরব ছিল ইডি। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, এই ঘটনায় যদি চোখ বন্ধ করে থাকা হয় তাতে রাজ্য পুলিশ সাহস পাবে এবং এই ধরনের ঘটনা যদি ঘটে তবে রাজনৈতিক নেতাদের তারা সাহায্য করবেন। পুলিশের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন তিনি। ইডির আইনজীবী বলেন, পুলিশ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ও প্রত্যক্ষ মদতে নথি চুরি করে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। শুধু তাই নয় ইডি আধিকারিকদের ফোন পর্যন্ত ছিনিয়ে নেওয়া হয়, এমনই অভিযোগ তুষার মেহেতার । অন্যদিকে, তল্লাশি চালানোর সময় মুখ্যমন্ত্রী ফাইল ও নথি নিয়ে বেরিয়ে আসার বিষয়টি আদালতে মান্যতা দিলেন রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল। তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন হিসেবে সেখানে যাওয়ার অধিকার ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেখান থেকে একটি ল্যাপটপ ও একটি মোবাইল নিয়ে গেছেন তিনি, এর বেশি কিছু নয়।
