
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আচমকাই চমক। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি থেকে সরে এসে প্রশংসার সুরে কথা বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক দিনের ব্যবধানে এই নাটকীয় অবস্থান বদল বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন প্রশ্ন তুলেছে কেন হঠাৎ নরম হল ওয়াশিংটন?
সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর দমননীতির অভিযোগ ওঠে। বহু মানুষকে গ্রেফতার ও মৃত্যুদণ্ডের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্প। প্রকাশ্যে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আমেরিকা চুপ করে থাকবে না, এমনকি সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দেন। হোয়াইট হাউসে টানা বৈঠক, কড়া বার্তা সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল চরম উত্তেজনাপূর্ণ।
কিন্তু শুক্রবার দৃশ্যপট বদলে যায়। সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। তাঁর মতে, বৃহস্পতিবার প্রায় ৮০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে ‘সম্মানজনক’ বলে ইরানকে ধন্যবাদ জানান তিনি। যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়া ট্রাম্পের মুখে এমন প্রশংসা আন্তর্জাতিক মহলে বিস্ময় তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সুরবদলের নেপথ্যে সক্রিয় কূটনীতি। সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, সৌদি আরব, মিশর, কাতার ও ওমান মধ্যস্থতার ভূমিকা নেয়। এই দেশগুলি আমেরিকা ও ইরান দু’পক্ষকেই বোঝায় যে সামরিক সংঘাত গোটা পশ্চিম এশিয়াকে অস্থিতিশীল করে তুলবে এবং তার প্রভাব আমেরিকার স্বার্থের বিরুদ্ধেই যাবে। একই সঙ্গে ইরানকেও সতর্ক করা হয়, মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা হলে আঞ্চলিক সম্পর্ক আরও জটিল হবে।
এই কূটনৈতিক চাপের ফলেই প্রথমে নরম সুর, তারপর প্রকাশ্য প্রশংসা ট্রাম্পের এই ইউ-টার্ন আপাতত স্বস্তি দিয়েছে বিশ্ব রাজনীতিকে। তবে এই সংযম কতদিন স্থায়ী হয়, সেটাই এখন দেখার।
