
পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ আনতে হলে আগে আইনশৃঙ্খলা ঠিক করা জরুরি এই বার্তাই দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক জনসভায় তিনি দাবি করেন, রাজ্যে অপরাধ, দুর্নীতি ও মাফিয়াবাদের পরিবেশ বিনিয়োগের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “কলেজে ধর্ষণ, হিংসা, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মতো ঘটনা বন্ধ করতে হলে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতেই হবে। একটি ভোটই নিশ্চিত করবে সন্দেশখালির মতো ঘটনা আর হবে না।”
মোদী আরও বলেন, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির কারণে হুগলি-সহ গোটা রাজ্যের বদনাম হয়েছে। হাজার হাজার শিক্ষক চাকরি হারিয়েছেন, যা রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে। তাঁর দাবি, আইনশৃঙ্খলা ঠিক না থাকলে কোনও বড় শিল্পপতি বা বিনিয়োগকারী এখানে আসতে চাইবেন না। অথচ পশ্চিমবঙ্গে সিন্ডিকেট ট্যাক্স ও মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য চলছে। “এই সিন্ডিকেট ট্যাক্স আর মাফিয়াবাদ বিজেপিই শেষ করবে, এটাই মোদীর গ্যারান্টি,” বলেন তিনি।
‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’-এর সাফল্যের উদাহরণ হিসেবে মোদী ত্রিপুরার কথা তোলেন। তাঁর মতে, বাম আমলে ত্রিপুরায় মাত্র চার শতাংশ বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছত। এখন বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকারের ফলে ৮৫ শতাংশ বাড়িতে জল সরবরাহ হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে এখনও অর্ধেক মানুষের বাড়িতে জল পৌঁছয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই পরিস্থিতির বদল হবে বলে আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গেও তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন মোদী। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে দেখে এবং তাদের বাঁচাতে ধর্না পর্যন্ত দেয়। সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য কেন্দ্র বারবার চিঠি দিলেও রাজ্য সরকার নাকি কোনও উদ্যোগ নেয়নি। মোদীর কড়া বার্তা, অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং ভুয়ো নথি নিয়ে যারা দেশে ঢুকেছে, তাদের ফেরত পাঠাতে হবে।
