
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে এসআইআর (SIR) শুনানিকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় বেছে বেছে নোটিস ধরানো হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে হাইওয়ের উপর টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। এর জেরে দীর্ঘ সময় ধরে স্তব্ধ হয়ে যায় যান চলাচল, চরম ভোগান্তিতে পড়েন নিত্যযাত্রীরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাঁরা ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন। তবু একাধিকবার শুনানিতে ডেকে হয়রানি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু সংখ্যালঘু ভোটারদেরই টার্গেট করা হচ্ছে। চোখে জল নিয়ে এক প্রবীণ ভোটার প্রশ্ন তোলেন, সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও কেন একসঙ্গে এত মানুষকে ফের নোটিস পাঠানো হচ্ছে? তাঁর কথায়, স্বাধীনতার পর থেকেই তিনি এই মাটিতে বসবাস করছেন, তবু আজ নিজের নাগরিকত্ব নিয়েই প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে।
গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও লিখিত নথি দেওয়া হচ্ছে না। শুধু বিএলও-র মুখে শুনেই নোটিসের কথা জানতে পারছেন তাঁরা। এক বিক্ষোভকারীর বক্তব্য, “মুসলমানদের বেছে বেছে হেনস্থা করা হচ্ছে। আমাদের পরিবার, সন্তানসংখ্যা—সব নিয়েই প্রমাণ চাইছে। অথচ অন্যদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানা হচ্ছে না।”
উল্লেখ্য, একই অভিযোগে বাদুড়িয়া, মগরাহাট ও মঙ্গলকোটেও বিক্ষোভ ছড়িয়েছে। এদিকে জাতীয় নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছে, শুনানিতে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণযোগ্য নয়। অ্যাডমিট জমা দেওয়া ভোটারদের ফের ডাকা হবে এবং শংসাপত্র বা অন্য বৈধ নথি জমা দিতে হবে। কমিশনের যুক্তি, রাজ্যের বাইরে অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণযোগ্য নয় বলেই এই সিদ্ধান্ত।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, এই নিয়ম কার্যকর করতে গিয়ে কেন নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে নিশানা করা হচ্ছে? পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের আশ্বাস, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। কিন্তু আতঙ্ক ও ক্ষোভ দুটোই এখনও স্পষ্ট বাসন্তীর রাস্তায়।
