
খড়গপুরের বিজেপি বিধায়ক এবং বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায় দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন। মঙ্গলবার তিনি নিজেই সামাজিক মাধ্যমে বিয়ের বিভিন্ন ছবি শেয়ার করেছেন। পাত্রীর নাম ঋতিকা গিরি। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, হিরণের সঙ্গে তাঁর ডিভোর্স হয়নি এবং কোনও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। অনিন্দিতা ও হিরণের বিয়ে হয়েছিল ২০০০ সালের ১১ ডিসেম্বর। তাদের একটি ১৯ বছর বয়সী কন্যাও রয়েছে।
ভারতের আইন অনুযায়ী, একজন হিন্দু ব্যক্তি একবারে একমাত্র বিয়েই বৈধ। হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫-এর ৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, যে কোনো বিবাহ বৈধ হবে যদি সেই সময় কোনও পক্ষেরই জীবিত স্বামী বা স্ত্রী না থাকে। অন্যথায় ১১ নম্বর ধারায় বিবাহ বাতিল ঘোষণা করা হবে। ১৭ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, প্রথম বিয়ে বৈধ থাকাকালীন দ্বিতীয় বিয়ে করা হলে তা অবৈধ, এবং ভারতীয় দণ্ডবিধি (বর্তমানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা) ৮২ ধারা অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অপরাধীর ক্ষেত্রে সাত বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে।
বিশেষ বিবাহ আইনের অধীনে যারা ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা ছাড়া বিয়ে করেন, তাদের ক্ষেত্রেও শর্ত একই আইনত বিবাহিত না থাকা। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিবাহও বাতিল ঘোষণা করা যেতে পারে।
প্রথম স্ত্রী আইনি প্রতিকারও নিতে পারেন। তিনি আদালতে ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের মামলা করতে পারেন, বা মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। দ্বিতীয় বিয়ে করলে প্রথম স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামীকে আইনি শাস্তিও দেওয়া যেতে পারে।
এই ঘটনায় এখন প্রশ্ন হলো, হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে কতটা আইনি এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী আইনানুগ প্রতিকার নিতে কী পদক্ষেপ নিতে পারেন।
