
ভারতের অন্যতম বিলাসবহুল ও অভিজাত ট্রেন মহারাজা এক্সপ্রেস বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেল লোকো পাইলটের দ্রুত সিদ্ধান্তে। মঙ্গলবার গভীর রাতে রাজস্থানের জয়পুর থেকে সাওয়াই মাধোপুরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ট্রেনটি। ট্রেনে ছিলেন প্রায় ১০০ জন বিদেশি পর্যটক। ন্যূনতম ভাড়া কয়েক লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ভাড়া ২০-২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে ছিল বাড়তি সতর্কতা।
রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ ট্রেনটি গতি বাড়ানোর সময় শিবদাসপুরা এলাকার একটি রেল ক্রসিংয়ের কাছে লোকো পাইলটের নজরে পড়ে লাইনের ফিসপ্লেট খোলা। রেলের সূত্রে জানা যায়, ট্র্যাকের একটি অংশ খুলে ঝুলছিল এবং পাশে পড়ে ছিল ফিসপ্লেট ও অন্যান্য লোহার যন্ত্রাংশ। বিষয়টি বুঝেই সঙ্গে সঙ্গে সহকারী লোকো পাইলটকে ব্রেক কষার নির্দেশ দেন তিনি। তীব্র ব্রেকের ফলে ট্রেনটি ঝাঁকুনি দিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়।
পরবর্তীতে দেখা যায়, রেল লাইনের উপর পাঁচ থেকে ছয়টি লোহার কাঠামো ফেলে রাখা ছিল। ট্রেনটি যদি পূর্ণ গতিতে এগোত, তাহলে লাইনচ্যুত হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে আশঙ্কা রেল কর্তৃপক্ষের। এতে বিদেশি পর্যটকদের প্রাণনাশেরও সম্ভাবনা ছিল।
ঘটনার পর কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটির নির্দেশে তদন্ত শুরু হয়েছে। রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF) স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে। আশপাশের গ্রামগুলির বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রাথমিক রিপোর্টে রেলের আধিকারিকরা এই ঘটনাকে সম্ভাব্য নাশকতা বলে উল্লেখ করেছেন। যান্ত্রিক ত্রুটি না কি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রেল সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই ঘটনার পর বিলাসবহুল ট্রেনগুলির রুটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। লোকো পাইলটের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সতর্কতার জন্য বড়সড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেল মহারাজা এক্সপ্রেস।
