
একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত এসএসসি (SSC)-র মেধাতালিকা প্রকাশের পর রাতারাতি পরিবর্তন ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিট নাগাদ প্রকাশিত প্যানেলে দেখা যায়, বেশ কিছু প্রার্থীর অভিজ্ঞতার নম্বর ছিল শূন্য। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল হতেই সেই জায়গায় কারও কারও নামের পাশে যোগ হয় ৬ থেকে ১০ নম্বর। এই আকস্মিক পরিবর্তনকে ঘিরে স্বচ্ছতা ও প্রক্রিয়ার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
এসএসসি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, কয়েকজন প্রার্থীর ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার নম্বর প্রথমে বসানো হয়নি, যদিও মোট প্রাপ্ত নম্বর ঠিক ছিল। পরে সেই ‘টেকনিক্যাল’ ত্রুটি সংশোধন করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে—প্রথমবার প্রকাশের সময় কেন এই ভুল ধরা পড়ল না? কেন রাতারাতি সংশোধন করতে হল? এতে কি প্রার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে না?
উল্লেখ্য, এই মেধাতালিকায় মোট প্রায় ১৮,৯০০ জন প্রার্থীর নাম রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১২,৫০০ জন চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার পর নির্ধারিত ডেডলাইনের মধ্যেই এই তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। বিশেষ করে ২০১৬ সালের নিয়োগ দুর্নীতির ঘটনায় চাকরি হারানো যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দিকেই নজর ছিল সবচেয়ে বেশি।
এর আগেও এসএসসির ওয়েটিং লিস্ট ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১৬ সালের ওয়েটিং লিস্টে থাকা ‘দাগি’ প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হয়, যাতে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম না থাকে। সেই তালিকা ঘিরেও প্রশ্ন ওঠে। তার মধ্যেই একাদশ-দ্বাদশের মেধাতালিকায় নম্বর পরিবর্তনের ঘটনা নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল।
চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত না হলে ফের আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। এখন দেখার, এই পরিবর্তন নিয়ে এসএসসি ভবিষ্যতে কী ব্যাখ্যা দেয় এবং পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয়।
