
দেশের অন্যান্য রাজ্যকে পিছনে ফেলে ছুটির সংখ্যায় ফের শীর্ষে উঠে এল পশ্চিমবঙ্গ। ২০২৬ সালে রাজ্য সরকারি কর্মীরা মোট ১৫৭ দিন ছুটি পাচ্ছেন বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। এই সংখ্যার মধ্যে রয়েছে ৫৩টি সরকারি ছুটি, ৫২টি শনিবার এবং ৫২টি রবিবার। ফলে কার্যত বছরের প্রায় অর্ধেক সময়ই ছুটির আওতায় পড়ছেন রাজ্যের সরকারি কর্মীরা।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১০ সালের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে সরকারি ছুটির সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৮ দিন। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবকে কেন্দ্র করে একাধিক নতুন ছুটি যুক্ত হওয়ায় এই বৃদ্ধি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরস্বতী পুজোর আগের দিন, শব-ই-বরাত, দোলের পরের দিন, ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আযহার আগের দিন ইত্যাদি।
এছাড়াও দুর্গাপুজোর ছুটির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আগে সপ্তমী থেকে চার দিনের ছুটি থাকলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে চতুর্থী থেকেই একটানা ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মীরা। ফলে পুজোর সময় লম্বা ছুটির সুযোগ আরও বেড়েছে।
রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের তৃণমূল সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কর্মচারীবান্ধব নীতির কারণেই ছুটির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁদের মতে, এতে কর্মীদের মানসিক স্বস্তি বাড়ে এবং কাজের প্রতি মনোযোগও বাড়ে।
তবে বিরোধী সংগঠনগুলির একাংশ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। তাঁদের অভিযোগ, একদিকে বকেয়া ডিএ এবং অন্যান্য আর্থিক দাবিদাওয়া মেটানো হয়নি, অন্যদিকে ছুটি বাড়িয়ে সরকার কার্যত আসল সমস্যাগুলি থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে। বর্তমানে যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা ৫৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীরা পাচ্ছেন মাত্র ১৮ শতাংশ। বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত মামলা এখনও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।
ছুটির সংখ্যায় রেকর্ড গড়লেও, ডিএ ও আর্থিক দাবিদাওয়া নিয়ে ক্ষোভের আগুন রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে। ছুটি বনাম বেতন, এই দ্বন্দ্বেই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্য প্রশাসনের কর্মী-মহল।
