
বাংলাদেশ সরকারের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অবস্থানে হঠাৎ বদল। যেখানে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা তুলে ভারত আয়োজিত ২০২৬ আইসিসি পুরুষ টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিল বাংলাদেশ, সেখানেই এবার ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান রাইফেল অ্যান্ড পিস্তল শ্যুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে সম্মতি দিল ঢাকা। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লিতে শুরু হতে চলা এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শ্যুটিং দলের দু’জন সদস্য, একজন অ্যাথলিট ও একজন কোচ, ভারতে আসবেন।
বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, আয়োজকদের তরফে নিরাপত্তা সংক্রান্ত পর্যাপ্ত আশ্বাস পাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রকের সচিব মহম্মদ মাহবুব-উল-আলম জানান, ছোট দল হওয়ায় এবং প্রতিযোগিতাটি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ ঝুঁকি দেখছে না সরকার। সবদিক খতিয়ে দেখেই শ্যুটিং দলকে ভারতে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক ও ক্রীড়ামহলে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, একই সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আইসিসির দেওয়া নিরাপত্তা আশ্বাসে সন্তুষ্ট না হয়ে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে একদিকে ক্রিকেট দলের জন্য নিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি, অন্যদিকে শ্যুটিং দলের ক্ষেত্রে ছাড়, এই দ্বৈত নীতির অভিযোগ সামনে আসছে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দুই ইভেন্টের চরিত্র ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধরনে পার্থক্য থাকলেও সরকারের অবস্থানের এই দ্রুত পরিবর্তন কূটনৈতিক ও ক্রীড়া মহলে কৌতূহল তৈরি করেছে। বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক নীতির অভাব ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রীড়া কূটনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান শ্যুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেও, নিরাপত্তা ও নীতিগত দ্বিচারিতা নিয়ে বিতর্ক আপাতত থামছে না।
