
কলকাতা: আনন্দপুরের ‘জতুগৃহ’ গোডাউনের ভাড়া প্রতি মাসে দেড় লক্ষ টাকা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, এর মধ্যে ৬০ হাজার টাকা স্থানীয় বিধায়কের প্রতিনিধির কাছে যেত। গোডাউনের মালিক গঙ্গাধর দাসকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোডাউন জলাভূমি দখল করে তৈরি করা হয়েছিল এবং সেখানে কোনো অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। ফরেন্সিক রিপোর্টেও স্পষ্ট হয়েছে, আগুন লেগেছিল পাশের তিন তলা বিল্ডিং থেকে, যা গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে। অন্তত ৪০ জন আটকা পড়েছেন, মৃত্যু সংখ্যা ৩৫-৪০ জন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারী নাজিরাবাদে যাওয়ার অনুমতি পেতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। নরেন্দ্রপুর থানার ১৬৩ ধারার জারি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “আমাকে আটকাতে কি আগে থেকে এই ধারা জারি করা হয়েছে?” হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, শুভেন্দুর মিছিল নির্ধারিত রুটে হবে। তিনি জানান, তারা ঘটনার স্থল থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূর থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
শুভেন্দু আরও বলেন, গোডাউনের ভাড়া ও ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে এই ঘটনা গুরুতর। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় থানা ও তৃণমূল নেতৃত্ব এ ধরনের পরিস্থিতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এছাড়া, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন।
নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু শুভেন্দু এই ঘটনাকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটা মুখ্যমন্ত্রীর ভোটব্যাঙ্কের এলাকা নয়, তাই সরকার নিরুত্তাপ।”
এই ঘটনা রাজনীতির অন্ধকার দিক এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির দিকে নতুন করে আলো ফেলেছে।
