
পশ্চিম মেদিনীপুরের নয়াগ্রামে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর সঙ্গে হেনস্থার অভিযোগকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনার তিন দিন পর অভিযুক্ত তন্ময় শাস্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তকে আটক করতে গেলে এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করতে হয়। এই ঘটনায় আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার রাতে। নয়াগ্রামের একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিমি চক্রবর্তী। উদ্যোক্তা ছিল স্থানীয় একটি যুবক সংঘ ক্লাব। অভিযোগ, রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ তন্ময় শাস্ত্রী মঞ্চে উঠে অভিনেত্রীকে অনুষ্ঠান বন্ধ করে নামতে বলেন। প্রকাশ্যে এই আচরণে অপমানিত বোধ করেন মিমি। ঘটনার পর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করার পাশাপাশি ই-মেলের মাধ্যমে বনগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অন্যদিকে, ক্লাব কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পরে মিমি মঞ্চে ওঠেন এবং অনুষ্ঠানের অনুমোদিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়। সামনে বোর্ডের পরীক্ষা থাকায় শব্দদূষণ ও সময়সীমার কথা মাথায় রেখে তারা অনুষ্ঠান শেষ করার অনুরোধ করেছিলেন। ক্লাবের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, মিমির দেহরক্ষীদের আচরণ নিয়েও আপত্তি রয়েছে এবং মঞ্চে থাকা কয়েকজন মহিলার সঙ্গে রূঢ় ব্যবহার করা হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শিল্পীদের সঙ্গে হেনস্থার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে, যা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
