
ব্যারাকপুরে দলের কর্মী সম্মেলন থেকে পুরোপুরি নির্বাচনী মেজাজে রাজ্য রাজনীতিতে ঝাঁঝ বাড়ালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবারের সভা থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে শাহ দাবি করেন, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ভোটের হার ৩৮ শতাংশ থেকে লাফ দিয়ে ৪৫ শতাংশে পৌঁছবে। বক্তব্যের শেষে রামায়ণের রাবণের প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি বলেন, “রাবণও ভেবেছিল তাকে কেউ হারাতে পারবে না, শুনে রাখুন মমতাদি।”
শাহ স্মরণ করিয়ে দেন, মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই কী ভাবে বিজেপি রাজ্যে তিনটি বিধানসভা আসন থেকে ৭৭টিতে এবং দু’টি লোকসভা আসন থেকে ১৮টিতে পৌঁছেছে। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপি ৩৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে এবং সেই ধারাবাহিকতাই আরও শক্ত হবে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির আসন সংখ্যা ও বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সভায় রাজ্যের অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মমতা সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন শাহ। এসএসসি, পুরসভা নিয়োগ, গরু পাচার, একশো দিনের কাজ ও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মতো একাধিক ক্ষেত্রে “হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি” হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। কটাক্ষ করে বলেন, ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করার লক্ষ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর “চোখে ঠুলি পড়েছে”, তবে বাংলার মানুষই সেই “ছানি কাটার অস্ত্রোপচার” করবে।
অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে শাহ দাবি করেন, এটি শুধু রাজ্যের নয়, গোটা দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন। সীমান্তে ফেন্সিংয়ের জন্য রাজ্য সরকার জমি দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নদী-নালা দিয়ে অনুপ্রবেশ রুখতে রাজ্য পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কথাও তুলে ধরেন। এই প্রসঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের উল্লেখ করে শাহ বলেন, আদালতও রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ব্যারাকপুরের মঞ্চ থেকে স্পষ্ট বার্তা দিলেন অমিত শাহ, ২০২৬-এর ভোটের লড়াইয়ে বাংলায় বিজেপি আরও আক্রমণাত্মক পথে হাঁটতে প্রস্তুত।
