
বঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে দক্ষিণবঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে শনিবার জোড়া কর্মী সভা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সকালে ব্যারাকপুরের আনন্দপুরে মাঠে কর্মী সভা শেষ করে শিলিগুড়ি সংলগ্ন বাগডোগরা গোসাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার একটি মাঠে কর্মী সভা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিনের সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, বিধায়ক শংকর ঘোষ, সাংসদ রাজু বিস্তা সহ বিজেপির একাধিক নেতৃত্বরা। শনিবারের সভায় ২০২৬ এর নির্বাচনে রূপরেখা কি হবে! তারই বার্তা দিলেন শাহ। এছাড়াও সভা মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন। মূলত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আজকের এই সভা মঞ্চ থেকে শিলিগুড়ি জোনের তথা শিলিগুড়ি দার্জিলিং কোচবিহার আলিপুরদুয়ার জলপাইগুড়ি জেলার পাঁচটি সাংগঠনিক জেলার মন্ডল স্তরের কর্মীদের রণকৌশল বেঁধে দিলেন।
ভোটমুখী বাংলায় কর্মী সম্মেলনের সভা থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসন এবং কমিউনিস্ট আমলের শাসনের তুলনা করেন এবং তিনি বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে।
অমিত শাহের বক্তব্যে রাজ্যের সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ পাওয়া গিয়েছে। শাহর অভিযোগ, ভোটে জিততে তৃণমূল সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছে। গোর্খা ও বাঙ্গালীদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করা হয়েছে, আদিবাসী ও কর্মী সমাজের মধ্যেও বিভাজন সৃষ্টি করা হয়েছে। যার ফলে বাংলার ঐক্য চুড়মার হয়ে ভেঙে পড়ছে।
তবে শুধু বর্তমান সরকার নয় রাজ্যের অতীত শাসনকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার দাবি, বামফ্রন্ট আমলে বাংলা পিছিয়ে পড়েছিল এবং তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় এসে সেই পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করেছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, শিল্প কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলা ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে।
উত্তরবঙ্গে এইমস হওয়া উচিত কিনা? এই প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এইমসের জমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আটকে রেখেছে। এছাড়াও তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের পাহাড় কে কাটার ষড়যন্ত্র চলছে। বাংলার চা শ্রমিকদের কথাও তিনি তুলে ধরেন। তিনি আরো বলেন, দিল্লিতে স্লোগান তোলা হয় চিকেনস নেক কে কেটে ফেলার। ভারতের ভূমিকেও কাটতে পারবে না, বলেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন শাহ।
বক্তব্যের শেষে ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, আগামী নির্বাচনে রাজ্যের মানুষ শাসকদলের সরকারকে উৎখাত করবে এবং শান্তি উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার নতুন সরকার গঠনের পথে হাঁটবে। বাগডোগরা এই সভা থেকে আগামীতে পরিবর্তনের ডাক দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
