
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার ঠিক আগেই নবান্নের পক্ষ থেকে পুলিশ প্রশাসনে এক অভাবনীয় রদবদল করা হলো। শুক্রবারের রেশ বজায় রেখে শনিবারও রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের শীর্ষপদে একাধিক বদলির নির্দেশিকা জারি হয়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে নির্বাচনের আগে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানোর বড় কৌশল হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজীব কুমারের অবসরের পর রাজ্যের নতুন ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আইপিএস পীযূষ পাণ্ডে। এর আগে তিনি ডিরেক্টর সিকিওরিটি পদে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, পীযূষ পাণ্ডের ছেড়ে আসা ডিরেক্টর সিকিওরিটি পদে আনা হয়েছে মনোজ বর্মাকে, যিনি এতদিন কলকাতা পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
শনিবার দুপুরের দিকে কলকাতার পুলিশ মহলে সবথেকে বড় পরিবর্তনটি দৃশ্যমান হয় লালবাজারে। সেখানে গিয়ে মনোজ বর্মার হাত থেকে কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন সুপ্রতিম সরকার। এর আগে তিনি এডিজি দক্ষিণবঙ্গ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দক্ষ প্রশাসক হিসেবে পরিচিত সুপ্রতিম সরকারের ওপর নির্বাচনের সময় শহর কলকাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বড় ভূমিকা থাকা এডিজি ল অ্যান্ড অর্ডার পদে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে বিনীত গোয়েলকে। এর আগে তিনি এডিজি এসটিএফ ছিলেন। অন্যদিকে, জাভেদ শামিমকে পাঠানো হয়েছে এডিজি এসটিএফ পদে। দমকল বিভাগের ডিজি হিসেবে অনুজ শর্মা এবং কারা দফতরের ডিজি পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিদ্ধিনাথ গুপ্তকে।
মহানগরের পাশাপাশি জেলা এবং রেঞ্জ স্তরেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বদল আনা হয়েছে। বিধাননগরের নতুন সিপি হয়েছেন মুরলীধর এবং ব্যারাকপুরের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রবীণ ত্রিপাঠী। হাওড়ার নতুন সিপি আকাশ মাঘারিয়া এবং চন্দননগরে এলেন কোটেশ্বর রাও। জেলা পুলিশ সুপারদের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। মুর্শিদাবাদের নতুন এসপি হয়েছেন ধৃতিমান সরকার এবং দার্জিলিংয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রতীক্ষা জাকারিয়া। বারাসাতে প্রিয়ব্রত রায়, সুন্দরবনে বিশ্বচাঁদ ঠাকুর এবং বনগাঁর এসপি পদে এসেছেন বিদিশা কলিতা। পূর্বতন মুর্শিদাবাদের এসপি কুমার সানি রাজকে পাঠানো হয়েছে এসএস আইবি পদে।
রেঞ্জ স্তরে নজর দিলে দেখা যায়, প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের ডিআইজি হয়েছেন ভাস্কর মুখোপাধ্যায় এবং বারাসাত রেঞ্জের আইজিপি পদে এলেন অমিত জাভালগি। বর্ধমান রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে অলোক রাজোরিয়া এবং আইজি হিসেবে অমিত পি জাভালগি দায়িত্ব পেয়েছেন। মুর্শিদাবাদ-জঙ্গিপুর রেঞ্জের আইজি হয়েছেন মুকেশ। এ ছাড়াও কলকাতা পুলিশের একাধিক ডিভিশনেও নতুন ডিসি নিয়োগ করা হয়েছে। ডিসি নর্থ এবং ডিসি সাউথ পদে যথাক্রমে দীনেশ কুমার ও দীপক সরকার দায়িত্ব নিয়েছেন। শিয়ালদা রেল পুলিশের এসআরপি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন দেবর্ষি দত্ত।
নির্বাচনের ঠিক আগে একযোগে এই বিশাল রদবদল স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, নবান্ন কোনোভাবেই নিরাপত্তার প্রশ্নে ঢিলেমি দিতে রাজি নয়। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ওপর এখন কড়া নজর থাকবে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের। জেলা থেকে শহর— সর্বত্রই নজরদারি ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এই রদবদল নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে সেটা সময় বলবে। তবে ধরে নেওয়া যেতে পারে এই রদবদল নির্বাচনের প্রাক মুহূর্তে জনগণের জন্য হিতকর হবে বলে আশা করা যায়।।
