
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন। সোমবার জাতীয় রাজধানীর বঙ্গভবনে তিনি বলেন, বাংলার ভোটারদের দমন করার জন্য পরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চলছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বহু মানুষকে মৃত দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, “শত শত মানুষ জীবিত থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকায় মৃত হিসেবে চিহ্নিত। এতে তাদের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, এই পুরো প্রক্রিয়ার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে এবং বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়া হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, “যখন দিল্লিতে বিস্ফোরণ হয়, তখন দিল্লি পুলিশ কোথায় থাকে? আমরা এলেই দিল্লি ভয় পেয়ে যায়। আমরা চাইলে লক্ষ লক্ষ মানুষ আনতে পারতাম, কিন্তু মাত্র ৫০ জন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে এনেছি।” তিনি দাবি করেন, দিল্লিতে নাগরিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় ঘাটতি রয়েছে এবং এখনও সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতা কাজ করছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আজ প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছে। প্রতিনিধি দলটি বাংলায় SIR-এর “পক্ষপাতদুষ্ট, নির্বিচার ও বৈষম্যমূলক” আচরণের অভিযোগ তুলে ধরবে এবং দ্রুত সংশোধনী পদক্ষেপের দাবি জানাবে।
এদিকে, হেইলি রোড ও চাণক্যপুরীর বঙ্গভবনের বাইরে দিল্লি পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোখে পড়ে। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
