
ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির আইনি স্বীকৃতি মিলল। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, অবিলম্বে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটাতে হবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে এই টাকা পরিশোধ করতে হবে। বাকি ৭৫ শতাংশ ডিএ কীভাবে ও কত কিস্তিতে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
রায় ঘোষণার পর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের “ন্যায্য অধিকারের স্বীকৃতি” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, ডিএ কোনও দান নয়, এটি কর্মচারীদের আইনসিদ্ধ অধিকার, এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্ববর্তী মন্তব্যের বিরোধিতা করে শুভেন্দু বলেন, আদালতের রায়ে প্রমাণ হল ডিএ কর্মচারীদের মৌলিক প্রাপ্য।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা যেখানে ৫৮ শতাংশ ডিএ পাচ্ছেন, সেখানে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা পাচ্ছেন মাত্র ১৮ শতাংশ। কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র ফারাক প্রায় ৪০ শতাংশ। অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হলে কেন্দ্রীয় ডিএ আরও বাড়তে পারে বলেও উল্লেখ করা হচ্ছে। এর আগেও পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত মামলায় রাজ্যকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।
শুভেন্দু অধিকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া পোস্টে রাজ্য সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কর্মচারীরা আন্দোলন ও আইনি লড়াই চালিয়ে গেছেন। পুলিশের বাধা ও চাপের মুখেও তাঁরা ধৈর্য ধরে আইনের পথেই লড়েছেন। তাঁর দাবি, এই রায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগ্রামের জয়। রায়ের পর রাজ্য প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছে লক্ষ লক্ষ কর্মচারী ও তাঁদের পরিবার।
