
শ্লীলতাহানি, যৌন নির্যাতন, শারীরিক অত্যাচার ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার তথা ইউটিউবার ননসেন ওরফে সমীক অধিকারির বিরুদ্ধে। এ নিয়ে বেহালা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে খোদ তার প্রেমিকা। নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার সমিক অধিকারীকে। অভিযোগ উঠেছে, মেয়ে বান্ধবীকে বাড়িতে প্রায় ১৪ ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর এবং প্রাননাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ পেয়ে পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত সেরেই বৃহস্পতিবার বিকেলে সমিককে জিজ্ঞাসাবাদ এর জন্য আটক করে। এরপর বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় তাকে গ্রেফতার করা হয় ।
প্রেমিকার অভিযোগ ও বয়ানে অসংগতি মেলায় অবশেষে গ্রেফতার করা হলো জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার সমিক অধিকারীকে। তার বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলার অজু করা হয়েছে। এদিন দুপুর ১২টা নাগাদ তাকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হবে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু তরজা।
অভিযোগকারীণির দাবি, গত ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি তাকে বেহালার একটি ফ্ল্যাটে জোড়পূর্বক বন্দি করে রেখেছিলেন তার প্রেমিক। ওই আটকে থাকা অবস্থায় তার ওপর অমানবিক শারীরিক অত্যাচার ও পৈশাচিক যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে। তরুণীর বয়ান অনুযায়ী, তাকে শারীরিক ট্রমাও দেওয়া হয়েছে ।
এ বিষয়ে নির্যাতিতার আইনি পরামর্শদাতা তিনি জানিয়েছেন, মেয়েটির শরীরে শারীরিক আঘাতের ছাপ স্পষ্ট। শুধু তাই নয়, আঘাতের দাগ মুছে ফেলতে ব্লিংক ইট থেকে মেকআপ অর্ডার করে অভিযুক্ত, জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। এমনকি অভিযুক্ত বাবা-মা ও নির্যাতিতাকে বাইরে কিছু না বলার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিল ।
সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, ওই তরুণী তার বাবা এবং দাদার সঙ্গে থাকেন। বাবা কাজের সূত্রে বাইরে গিয়েছে এবং দাদা কর্মসূত্রে হায়দ্রাবাদে থাকেন। ফলেই আতঙ্কিত হয়ে বুধবার নির্যাতিতা একা এসে অভিযোগ দায়ের করে এবং একটি মেডিকেল টেস্ট করায়। মেডিকেল টেস্টে শারীরিক নির্যাতনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি সমীকের তৈরি ‘বাটন’ ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ায় এই গ্রেফতারি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাই ইনফ্লুয়েন্সিং ভিডিও করে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই সমিক অধিকারীর নাম জড়িয়ে যাওয়ায় জল্পনা তৈরি হয়েছে।
