
আজ দেশজুড়ে ওলা, উবার ও র্যাপিডোর মতো অ্যাপ-ক্যাব পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। ‘অল ইন্ডিয়া ব্রেকডাউন’ নামে ডাকা এই কর্মবিরতিতে হাজার হাজার চালক অন্তত ছয় ঘণ্টা কাজ থেকে লগআউট থাকবেন বলে জানিয়েছেন সংগঠকরা। ফলে সকাল থেকে শহরের রাস্তায় যাঁরা অ্যাপ-ক্যাবের উপর নির্ভর করেন, তাঁদের ভোগান্তি বাড়তে পারে। ক্যাবের পাশাপাশি বাইক ট্যাক্সি ও অটো পরিষেবাতেও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তেলঙ্গানা গিগ অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ডাকে এই ধর্মঘটে একাধিক শ্রমিক সংগঠন সমর্থন জানিয়েছে। চালকদের অভিযোগ, অ্যাপ এগ্রিগেটররা ন্যায্য ভাড়ার ন্যূনতম কাঠামো না মেনে নিজেদের মতো ভাড়া নির্ধারণ করছে। মোটর ভেহিকেলস এগ্রিগেটর গাইডলাইন ২০২৫ পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় চালকদের আয়ে চাপ পড়ছে, অথচ প্ল্যাটফর্মগুলির কমিশন বাড়ছে। অনিয়ন্ত্রিত ভাড়া কাঠামো ও ইনসেনটিভ নীতির জেরে দীর্ঘ সময় কাজ করেও ন্যূনতম উপার্জন নিশ্চিত হচ্ছে না, এমনটাই দাবি চালকদের একাংশের।
ধর্মঘটকারীদের মূল দাবি দু’টি। প্রথমত, ট্যাক্সি, বাইক ট্যাক্সি ও অটোর জন্য সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম বেস ফেয়ার চালু করতে হবে এবং তা নির্ধারণে স্বীকৃত ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা জরুরি। দ্বিতীয়ত, প্রাইভেট ও নন-কমার্শিয়াল গাড়িকে বাণিজ্যিক পরিবহণ বা পণ্য পরিবহনে ব্যবহার করার প্রবণতা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। এতে নিয়ম মেনে চলা চালকেরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে মত সংগঠকদের।
এর আগে ডিসেম্বরে ফুড ডেলিভারি ও কুইক কমার্স কর্মীদের কর্মবিরতিও শহরে প্রভাব ফেলেছিল। আজকের পরিস্থিতিতে যাত্রীদের বিকল্প হিসেবে মেট্রো, বাস বা লোকাল ট্রেন ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন পরিবহণ বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে, তাই আগেভাগেই যাত্রাপথ ও সময় পরিকল্পনা করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
