
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে রাজ্যে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো খবরে অনেকেই ভাবছেন, সব মহিলা কি এবার ১৭০০ টাকা করে পাবেন? বাস্তবে, রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রকল্পের নিয়মে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে, যার ফলে আবেদন প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে এবং উপভোক্তাদের একাংশের জন্য ভাতার অঙ্কও বেড়েছে।
২০২১ সালে শুরু হওয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মূল লক্ষ্য রাজ্যের মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করা। এতদিন পর্যন্ত আবেদন করতে ‘স্বাস্থ্য সাথী’ কার্ড বাধ্যতামূলক ছিল। কার্ড না থাকায় বহু মহিলা প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। নতুন নিয়মে এই বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, স্বাস্থ্য সাথী কার্ড না থাকলেও এখন আবেদন করা যাবে। ফলে গ্রাম ও শহরের বহু সাধারণ মহিলা এবার প্রকল্পের আওতায় আসতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ভাতার অঙ্কেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১৫০০ টাকা করে পাবেন। আর তপশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত (SC/ST) মহিলাদের ক্ষেত্রে এই অঙ্ক বেড়ে হয়েছে ১৭০০ টাকা। তবে মনে রাখতে হবে, সবাই ১৭০০ টাকা পাবেন না, এই সুবিধা নির্দিষ্ট শ্রেণিভুক্ত উপভোক্তাদের জন্য প্রযোজ্য।
আবেদনের জন্য পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া বাধ্যতামূলক। বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। সরকারি চাকরিজীবী বা নিয়মিত সরকারি পেনশনভোগীরা এই প্রকল্পের আওতায় পড়বেন না। আবেদনপত্রের সঙ্গে আধার কার্ড, ব্যাঙ্ক পাসবুক, ছবি, মোবাইল নম্বর এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে SC/ST শংসাপত্র জমা দিতে হবে।
বিডিও অফিস বা ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পে সারা বছরই আবেদন জমা নেওয়া হচ্ছে। নতুন নিয়মে প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় উপভোক্তার সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই মনে করছে প্রশাসন।
