
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানো নিয়ে নবান্নের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট ঘোষণা না আসায় নতুন করে চাপ বাড়ালেন কর্মীরা। আদালত ইতিমধ্যেই ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু সময় গড়ালেও রাজ্য সরকারের তরফে নির্দেশিকা বা বিজ্ঞপ্তি জারি না হওয়ায় কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দুটোই বাড়ছে।
এই প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের সংগঠন ‘ইউনিটি ফোরাম’ নবান্নে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে। মুখ্যসচিব ও অর্থ দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের উদ্দেশে পাঠানো ওই নোটিশে সুপ্রিম কোর্টের রায় অবিলম্বে কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে। আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশ মানা না হলে ভবিষ্যতে রাজ্য সরকারকে আরও জটিল আইনি প্রক্রিয়ার মুখে পড়তে হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। ওই কমিটিতে সিএজি-র প্রতিনিধি ও অর্থ দফতরের বরিষ্ঠ আধিকারিক থাকার কথা। বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ কীভাবে ও কত কিস্তিতে মেটানো হবে, সে বিষয়ে রিপোর্ট দেবে এই কমিটি। আগামী ১৫ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
উল্লেখ্য, দিল্লি ও চেন্নাইয়ের মতো কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রাজ্য সরকারি কর্মীরা যেখানে বেশি হারে ডিএ পাচ্ছেন, সেখানে বাংলার কর্মীরা তুলনামূলক কম হারে ডিএ পাচ্ছেন, এই বৈষম্য নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ রয়েছে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, আদালতের রায় মানা শুধু আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, কর্মীদের ন্যায্য অধিকার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিএ মেটানো না হলে আন্দোলনের পথেও যেতে পারেন তাঁরা।
